1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

উন্নত জাতের কলম তৈরি করে সাফল্য পেয়েছে শিবুপদ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

অরুণ দেবনাথ ডুমুরিয়া(খুলনা)::ছোট বেলা থেকে একটা নেশা ছিলো, এক গাছের ডাল কেঁটে অন্য গাছের ডালের সঙ্গে বেধে নতুন নতুন গাছ তৈরি করা। সেই স্বপ্নের সঙ্গে চলতে চলতে পরিণত বয়সে এসে ডুমুরিয়া উপজেলার রুপরামপুর গ্রামের শিবুপদ জোয়াদ্দার বাড়ির পড়ে-থাকা জমিতেই একটি নার্সারী গড়ে তুলেছেন। এখন বছরে তার লাখ-লাখ টাকা লাভ দেখে এলাকার যুবকরাও এগিয়ে আসছেন। নার্সারী মালিক শিবুপদ জোয়াদ্দার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্ত্রীর উৎসাহে ২০১৮ সাল থেকে নার্সারী গড়ার লক্ষ্যে শিবুপদ ভারত থেকে প্রথমে সূর্যডিম, তাইওয়ান রেড, আলফানসো, ব্রæনাই কিং, হানি ডিউ, ক্যারালা ম্যাংগো-সহ বিভিন্ন জাতের বড়-বড় আম গাছের ছড় (ডাল) এনে নিজের বাড়িতে ছোট-ছোট চারা গাছের সঙ্গে কলম তৈরি করেন। দিনে- দিনে আরও অনেক জাতের ছড় সংগ্রহ করে কলম করার পর নিবিড় পরিচর্যা চলতে থাকে। ওই সময়ের মধ্যে লঙ্গন, রুবি লঙ্গন, থাই ছবেদা, ডোরাকাটা ছবেদা, দার্জিলিং কমলা, থাই জবা, কেজি জাম-সহ নানা প্রজাতির চারা(কলম) তৈরি হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ঘরের পাশে পড়ে থাকা সকল জমিতে নতুন নতুন জাতের চারা মাথা তুলতে থাকে। এভাবে ২ বছর ধরে চারা তৈরি ও পরিচর্যার কাজে নিজের শ্রমের পাশাপাশি ৫০ হাজারেরও বেশি টাকা খরচ করেন। আর ততদিনে স্ব-শিক্ষিত শিবুপদ তার স্ত্রী’র নামেই থুকড়া-রংপুর সড়কের পাশেই ‘পিয়ংকা নার্সারী’ সাইন বোর্ড টানিয়ে দিলে এলাকাবাসীর নজর কাড়ে।
২০২০ সালে প্রথম বছরেই দেড় লাখ টাকার চারা বিক্রি হওয়ায় শিবুপদ লক্ষাধিক টাকা লাভের মুখ দেখেন। ২০২১ সালে মাত্র ২৫ হাজার টাকা খরচ করলেও চারা বিক্রি হয় ৩ লাখ টাকা। ওই লাভের পর পার্শবর্তীতে ১ বিঘা জমি ভাড়া (লিজ) নিয়ে সেখানেও চারা তৈরি করছেন। তারপর থেকে প্রতিবছর ৪-৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে তার নার্সারীতে ফল-ফুল-সহ ২ শতাধিক জাতের গাছের চারা আছে। শিবুপদ-কে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তার সাফল্য দেখে ইতোমধ্যে থুকড়া এলাকার চারা বিক্রেতা যুবক আলমগীর হোসেন নার্সারী গড়ে তুলেছেন। আর সঞ্জয় মন্ডলও শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে শিবুপদ জোয়াদ্দার বলেন, আমার স্ত্রী ইন্টারনেট থেকে নতুন-নতুন জাতের চারা খুঁজে বের করে, আর আমি সেটা জোগাড় করে নার্সারীতে এনে এ পর্যন্ত ৮২ জাতের আম,ভিয়েতনামের লাল কাঠাল, বারোমাসি কাঠাল, কালো গোলাপ, থাই জবা-সহ ২’শতাধিক প্রজাতের চারা প্রস্তু করেছি। ইতোমধ্যে খুলনার বয়রা, বটিয়াঘাটা, বান্দা, গদাইপুর, যশোরের রুপদিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে আমার নার্সারী’র চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, শিবুপদ নিজ চেষ্টায় উন্নত জাতের বিভিন্ন গাছের চারা তৈরি করে সফল নার্সারী গড়ে তুলে সাফল্য পেয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews