1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার-প্রধানমন্ত্রী যাত্রী হয়রানি বন্ধে দালালমুক্ত করা হলো বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস-ইমিগ্রেশন বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন সোহিনী কোটাবিরোধীদের আন্দোলন থামিয়ে আদালতে আসা উচিত-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডুমুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী রঘুনাথপুর হাইস্কুলের নতুন অডিটরিয়াম ভবন উদ্বোধন কেএমপি’র মাদক বিরোধী অভিযানে ১ কেজি ৪০ গাঁজা, ৭৫ পিস ইয়াবাসহ ৮ জন গ্রেফতার হোম না অ্যাওয়ে, যে জার্সি পরে ফাইনালে খেলবেন আর্জেন্টিনা ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীকে জাল সনদ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন রোববার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিতে পারে-ডিবি প্রধান

পাইকগাছায় কুল চাষে সফল নার্সারীর মালিক সুকনাথ পাল

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা ( খুলনা )::খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে সফলতা পেয়েছে গদাইপুরের রজনীগন্ধা নার্সারীর মালিক সুকনাথ পাল। উপজেলার বাঁকা গ্রামে ৩ বিঘা জমি লীজ নিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক বল সুন্দরী, থাই আপেল ও কাশ্মীরি কুলের গাছ লাগিয়ে বাগান তৈরি করেছেন।

বাগানে সারি সারি কুলগাছ। আকারে ছোট। বড়জোর চার থেকে পাঁচ ফুট। কুলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছগুলো। বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। এক একটি গাছ ৫ থেকে ৬ হাত লম্বা। গাছের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে শুধু বল সুন্দরী কুল। থাই আপেল কুলের ওপরের অংশে হালকা সিঁদুর রং রয়েছে। ফলটি আকারে বড়, দেখতে ঠিক আপেলের মতো, খেতেও ঠিক আপেলের মতো সুস্বাদু। এদিকে এই ফলটি খেতে সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ পরিচিতি লাভ করায় ক্রেতাদের চাহিদাও দিন দিন বেড়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০/১২টি কুলের বাগান, ক্ষেতের আইলে, বাড়ীতে, ছড়ানো ঠিটানো প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে কুল বাগান রয়েছে। জানা গেছে, সুকনাথ পাল আড়াই বছর আগে উপজেলার বাঁকা গ্রামে৩ বিঘা জমি লীজ নিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক বল সুন্দরী, থাই আপেল ও কাশ্মীরি কুলের গাছের চারা লাগান। কুল গাছের চারা রোপন ও অনন্যা খরচসহ তার দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। চারা রোপণ করার ৭ মাসের মাথায় গাছে ফল ধরে। প্রথম কুল বাগান থেকে এক লাখ দশ হাজার টাকার কুল বিক্রি হয়। দ্বিতীয় বছরে কুলের দাম বেশী পাওয়ায় প্রায় ৩ লাখ টাকার কুল বিক্রি হয়। এ বছর অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে তাছাড়া গাছে ফল কম হয়েছে আর দামও কম। প্রতি কেজি ৫০ টাকা কেজি দরে কুল বিক্রি হচ্ছে। গাছে প্রতি প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি করে বল সুন্দরী, থাই আপেল কুল ধরেছে। ইতোমধ্যে বাগান থেকে কুল বিক্রি শুরু হয়েছে। শ্রমিকরা বাগানে কুল তোলা ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকার মতো ফল বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানায়।কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এই বাগান থেকে দেড় লাখ টাকার বেশী কুল বিক্রি করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।

সরেজমিনে কুল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে রয়েছে বল সুন্দরী ও থাই আপেল কুল। যে দিকে দৃষ্টি যায় শুধু ফল আর ফল চোখে পড়ছে। বাহারী রঙের দৃষ্টি নন্দন কুল দেখলে মন কাড়ে। দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রঙ আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক সুস্বাধু ও মিষ্টি। বল সুন্দরী ফল চাষ করে ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। দূর দূরান্ত থেকে অনেক বেকার লোকজন এসে দেখছেন এবং বিষয়ে নানা পরামর্শ তার কাছ থেকে নিচ্ছেন।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অসিম কুমার দাশ বলেন,এ উপজেলায় কিছু কিছু নার্সারীতে বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন।এরমধ্যে সুকনাথ পাল একজন সফল কৃষক। নতুন জাতের এই কুলের চাষ করে তিনি এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।

কুলের আবাদের জন্য চাষের জমির খুব একটা প্রয়োজন হয় না। বাগান আকারে চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি ভালো। তাছাড়া বাড়ির আনাচে-কানাচে, পুকুর পাড়ে বা আঙিনায় পড়ে থাকা অনুর্বর মাটিতেও গর্ত করে চাষ করা যায়। পতিত জমিতে কুল চাষ করে ইতোমধ্যে অনেক চাষি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছেন, অন্যদিকে পুষ্টির ঘাটতি পূরণসহ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।পতিত জমিতে চাষ করে কৃষিতে নতুন বিপ্লব সম্ভব। তিনি কুল চাষে আগ্রহীদের সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews