1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
এপিএ বাস্তবায়নে প্রথম স্থানে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ বটিয়াঘাটায় বাংলাদেশ আ’লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র অস্ট্রেলিয়াকে ২১ রানে হারিয়ে আফগানিস্তানের ইতিহাস আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হচ্ছে এদেশের জনগণ-শেখ হাসিনা ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪৫০ পরীক্ষার্থী ছাগলকাণ্ডে ধরা মতিউর, অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় যোগ দিয়েছেন শেখ হাসিনা

টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে বিতর্ক: তোপের মুখে পোস্ট সরাল ভারত

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক::বাংলাদেশের বহুল পরিচিত একটি পণ্য ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’। টাঙ্গাইল জেলার সঙ্গে নামটি জড়িয়ে আছে এই শাড়িটির। সম্প্রতি ভারত দাবি করেছে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’ তাদের পণ্য। পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে অনেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টে টাঙ্গাইল শাড়িকে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য উল্লেখ করা হয়। পোস্টে বলা হয়, এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের বহিঃপ্রকাশ। তবে ফেসবুকে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এমন দাবি সম্বলিত পোস্ট নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই এর সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এই পোস্ট সরিয়ে নিয়েছে ভারত।

কিন্তু এই বিতর্কের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছিল আরো একমাস আগে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শাড়িকে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস বিভাগের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ভারতের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন রেজিস্ট্রির তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হস্তশিল্প বিভাগ এর জন্য আবেদন করেছিল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে।

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভারতের জিআইর তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ির উপস্থিতির কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপত্তিস্থল

বিভিন্ন গবেষণা এবং এই শিল্পের আদি ধারার সঙ্গে সম্পৃক্তদের মতে, এই শাড়ির উৎপত্তিস্থল হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে উঠে আসছে পাথরাইল, নলশোধা, ঘারিন্দাসহ টাঙ্গাইলের এমন বাইশ-তেইশটি গ্রামের নাম। একসঙ্গে এগুলোকে বাইশগ্রাম বলে চিহ্নিত করা হতো। এসব গ্রামই ঠিকানা ছিল তাঁতিদের। যাদের পদবি ছিল ‘বসাক’।

ওই তাঁতিদের বংশধর হরিপদ বসাক জানিয়েছেন, জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে হলেও বর্তমানে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায়।

হরিপদ বসাক জানান, ১৮৫০ সাল বা তার কাছাকাছি সময়ে তৎকালীন ধামরাই এবং চৌহট্ট নামে দুটি গ্রামে মসলিনের উত্তরসূরি কিছু তাঁতি বসবাস করতেন। সন্তোষ, করটিয়া, দেলদুয়ারে জমিদারি পত্তনের সময় অন্যান্য পেশাজীবীর পাশাপাশি ওই তাঁতিদেরও সেসব জায়গায় নিয়ে বসতি স্থাপন করা হয়। এসব গ্রামের মানুষরা যে শাড়ি বয়ন করতেন তাই ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

২০১৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার তাঁতিদের নিয়ে একটি গবেষণা করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন গবেষক সুব্রত ব্যানার্জি, মো. মনিরুজ্জামান মুজিব ও সুমনা শারমিন।

গবেষণায় দেখা যায়, পাকিস্তান পর্বে তো বটেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরেও বসাক সম্প্রদায়ের পরিবারের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে।

নলশোধা গ্রামের উদাহরণ টেনে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার পর পুরো গ্রামেই বাড়িতে বাড়িতে তাঁত থাকলেও ২০১৪ সালে সরেজমিন তারা দেখতে পান মাত্র ২২টি পরিবার এই পেশায় যুক্ত আছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁতশিল্প নিয়ে গবেষণা করেন নিলয় কুমার বসাক। তিনিও ওই তন্তুবায় সম্প্রদায়ের উত্তর প্রজন্ম। নিলয় বলেন, ‘১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বসাক সম্প্রদায়ের বড় অংশই ভারতে চলে যান। তাদের ভিড়টা বেশি হয় নদীয়া জেলার ফুলিয়া গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানের ধাত্রী গ্রাম ও সমুদ্রগড়ে। তাদের হাত ধরে নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’ পরিচিতি লাভ করে।

সূত্র: বিবিসি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews