1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
টি-২০ বিশ্বকাপ;ডিএলএস ম্যাথডে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল বাংলাদেশ তাপমাত্রা ৫১.৮ ডিগ্রি সে.তীব্র গরমে সৌদিতে ১০৮১ হজযাত্রীর মৃত্যু, বাংলাদেশের ৩১ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী পূর্নবাসন কাজে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে-এমপি রশীদুজ্জামান কবিতা গানে শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় তারুণ্যের কবি রুদ্রকে স্মরণ ইফাত আমার মামাতো বোনের সন্তান, মতিউর রহমানই তার বাবা সুপার এইটে উঠেছি, এখন যা পাবো সবই বোনাস-হাথুরুসিংহে যুক্তরাষ্ট্রে জেলবন্দি মুসলিমরা পেল জুমার নামাজের অনুমতি ভিয়েতনাম সফরে ভ্লাদিমির পুতিন

বটিয়াঘাটায় কাঠের ব্রিজ, হাজার হাজার মানুষের প্রশান্তি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

গাজী তরিকুল ইসলাম, বটিয়াঘাটা থেকে::হাঁটু সমান কাঁদা নিয়ে পারাপার হতে হতো নদীর দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষের। সে ভোগান্তিতে এখন আর পারাপার হতে হয় না। বড় কাঁঠের পিলার, বাঁশের খুঁটি ও পাটাতন এবং নাট স্কু দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল দৈর্ঘ্যের একটি ব্রীজ। ব্রীজটি দেখতে নয়নাভিরাম ও নান্দনিক তেমনি মজবুত। এতেই খুশিতে আটখানা এলাকাবাসী। বটিয়াঘাটা উপজেলার শৈলমারী নদীর উপর কৈয়া ও শৈলমারী ঘাট এলাকায় নির্মিত হয়েছে এ ব্রীজটি। উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের যৌবনে টইটম্বুর খরস্রোতা শৈলমারী নদী যেটা ভদ্রা দিয়ে ঝপঝপিয়া নদীতে মিশে গেছে। নদীটির শৈলমারী ও কৈয়া খেওয়া ঘাট এলাকার দু’পাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে শৈলমারী, হোগলবুনিয়া কাছারি, বাগুলাডাঙ্গা, পার-বটিয়াঘাটা এবং উত্তর পাড়ে কৈয়া, ঘোলা, জয়খালী, রাজবাঁধ, হোগলাডাঙ্গা ও চকশৈলমারী সহ ১২/১৩ টি গ্রাম বিদ্যমান। স‚ত্রে প্রকাশ, স্বাধীনতা পরবর্তী গ্রামগুলির হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিলো খেয়া নৌকা। ২০২০ সাল পর্যন্ত উক্ত এলাকার মানুষ নদীর উপর খেওয়া পার হয়ে জেলা ও উপজেলা শহরে হাঁট- বাজার এবং স্কুল -কলেজে যাতায়াত করতো। এর কিছুদিন পরে নদীটির যৌবন হারাতে শুরু করে। তখন জোঁয়ারের সময় খেঁয়া পার এবং ভাঁটার সময় হাঁটু সমান কাঁদা নিয়ে পারাপার হতো জনসাধারণ। বিগত দুই বছর যাবত জন দ‚র্ভোগের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। জোঁয়ার- ভাঁটায় হাঁটু পরিমাণ কর্দমাক্ত হয়ে তাদের যাতায়াত করতে হতো। গত বছরের শেষের দিকে জনমানুষের সীমাহীন দ‚র্ভোগের বিষয়টি শিল্পপতি প্রফুল্ল রায়ের নজরে আনে স্থানীয় এলাকাবাসী। ঘাট দিয়ে তিনি যাওয়ার সময় অশীতিপর এক বৃদ্ধা চর দিয়ে পারাপারের সময় তাকে চরে আটকে পড়ায় তার স্বর্গীয় মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। সেই থেকে তিনি সম্প‚র্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে ব্রীজ নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। ওই দিনেই তিনি লোকবল নিয়ে গাছ দেখতে শুরু করেন। স‚চনা করেন শৈলমারী খেওয়া ঘাট এলাকায় প্রায় তিনশত মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রীজ নির্মাণের কাজ। নির্মাণ বিশেষজ্ঞ দের প্রযুক্তি ও পরামর্শ নিয়ে কয়েক হাজার পিচ কাঁঠের জয়েন্ট পিলার ও পাঁটাতন দিয়ে স্কু নাটের জয়েন্ট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শৈলমারী-কৈয়া খেয়াঘাট ব্রীজ। যা দেখতে অতিব সুন্দর ও খুবই মজবুত। ব্রীজের দুই পারে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা মাটি ভরাট করে ইট ও ভ্যাটস দিয়ে পাকা করা হয়েছে। প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং শ্রমিক খরচ মিটিয়ে ব্রীজটি নির্মাণ করতে সর্বসাকুল্যে প্রায় ২৩ লক্ষাধিক টাকা ব্যায় পড়েছে। যা তিনি পুটোটায় ব্যক্তিগত দিয়ে জনসাধারণের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। ব্রীজের উপর দিয়ে এখন যাত্রীবাহী ইজিবাইক, চার্জার ভ্যান, মোটরসাইকেল সহ ছোটখাটো যানবাহন হরহামেশাই যাতায়াত করছে। আশপাশের বাসিন্দাদের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে, নদী পার হয়ে বটিয়াঘাটা সদর,জলমা ও সুরখালি ইউনিয়নের ১২/১৩ টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিভাগীয় শহর খুলনা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলা শহরে যাতায়াত করে থাকেন। প্রতিদিন অন্তত সহস্রাধিক লোক এ ঘাট দিয়ে পারাপার হতো। নদী পার হয়েই জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্কুল- কলেজ, অফিস-আদালত, কৃষি উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ও হাঁট-বাজারে যেতে হয়। শংঙ্কাটপন্ন কোন রোগিকে চিকিৎসায় পৌঁছাতে তাদের ঘন্টার পর পর ঘন্টা সময় লেগে যেতো। দানবীর হিসেবে পরিচিত প্রফুল্ল কুমার রায় কয়েক লক্ষ টাকা ব্যায় করে যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে ব্রীজটি জনস্বার্থে তৈরি করে দিয়েছেন সে কারনে বেজায় খুশি তারা। আগে তাদের ৬/৭কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে জেলা ও উপজেলা শহরে যেতে হতো। এখন তারা খুব কম সময়ে ব্রীজের উপর দিয়ে যানবাহন নিয়ে পার হয়ে কৈয়া বাজার দিয়ে শহরে পৌঁছাতে পারে। এ বিষয়ে প্রফুল্ল কুমার রায়ের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, প্রতি প্রত্যেকের সমাজের কাছে সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা রয়েছে। উদারতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারলে মানসিক উৎকর্ষ সাধন হয়। এতে যে কতখানি প্রশান্তি এনে দেয় তা বলে বোঝানো যায় না। অর্থ থাকলে ব্যায় করা খুবই কঠিন। মন ও মানসিকতাটা এখানে বড় জরুরি। এর আগেও তিনি বটিয়াঘাটা ওভার ব্রীজ সংলগ্ন বাজারম‚খি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি সংযোগ সড়ক এবং বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, তেরোখাদা উপজেলায় অসংখ্য মন্দির- মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি করে দিয়েছেন। যা কিনা স্ব স্ব এলাকার জনকল্যাণে অবদান রেখে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews