শিশুদের জায়গা শিশুদের ফিরিয়ে দিন। জাতিসংঘ শিশু পার্কে শিশুদের খেলার সামগ্রীর দিকে না খেয়াল করে স্থায়ী মঞ্চ তৈরী করা চলবে না। খুলনা বিভাগীয় শহর এই শহরে নেই শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র। জাতিসংঘ শিশু পার্কটি যাও ক্ষুরিয়ে চলছে তাও নষ্ট করার উপক্রম হয়েছে। আমরা চাই জাতিসংঘ শিশু পার্ক ও গোলকমনি পার্কে শিশুদের উপযোগী খেলধূলা পরিবেশ তৈরী করা হোক। অনতিবিলম্বে পার্কে স্থায়ী মঞ্চ করার জন্য যে সামগ্রী নিয়ে আসা হয়েছে তা অপসরণ করে সেখানে শিশুদের জন্য রাইডার স্থাপন করা হোক। এভাবে স্মারকলিপি পেশকালে দাবি তুললেন জনউদ্যোগ খুলনাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় খুলনা সার্কিট হাউজে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ শাহ এর নিকট জনউদ্যোগ খুলনার উদ্যোগে জাতিসংঘ শিশু পার্কে স্থায়ী মঞ্চ না করার দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগ খুলনার আহবায়ক মানস রায়, খুলনা সিভিল সোসাইটির আহবায়ক এস এম শাহনাওয়াজ আলী, নাগরিক নেতা মফিদুল ইসলাম, গণসংহতির আন্দোলনের আহবায়ক ও সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মনির চৌধুরী সোহেল, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সহ-সভাপতি সরদার আবু তাহের, শিশু সুরক্ষা জোটের সম্পাদক এম নাজমুল আলম ডেভিড, খুলনা নজরুল একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মাছুদ মাহমুদ, নারী নেত্রী নূরুল নাহার হীরা, শাহালা হাবিবি, খুলনা আর্ট স্কুলের পরিচালক বিধান চন্দ্ররায়, সিরাজুল ইসলাম লিখন, মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, জুলাই আন্দোলনের নেতা জয় বৈদ্য , আসিফ আহমেদ ও জনউদ্যোগ খুলনার সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন।
বক্তারা বলেন, জাতিসংঘ পার্কে মেলার কারণে বছরের বিভিন্ন সময় শিশুদের খেলাধুলা বন্ধ থাকে। এখন ভেতরে স্থায়ী মঞ্চ তৈরি হলে সারাবছর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি থাকবে। একমাত্র উন্মুক্ত শিশু পার্কও খেলার উপযোগী থাকবে না।
বক্তারা বলেন, এ ছাড়া পার্কের একপাশে বড় একটি বেসরকারি হাসপাতাল, অন্যপাশে মসজিদ রয়েছে। পার্কে সমাবেশ বা মেলা হলে শিশুরা যেমন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি হাসপাতালের রোগীরাও কষ্ট পায়। ক্ষুব্ধ হন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কেসিসিকে এ প্রকল্প থেকে সরে আসা উচিত।
খুলনা নগরীতে কেসিসির পার্ক রয়েছে ৬টি। এর মধ্যে নিরালা ও সোনাডাঙ্গা শিশু পার্ক শুধু নামেই। সেখানে বিনোদনের ন্যূনতম পরিবেশ নেই। গোলকমনি পার্কে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ ছাড়া কিছু নেই। হাদিস পার্কে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি থাকায় শিশুদের খেলার পরিবেশ থাকে না। খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড ও গল্লামারী লিনিয়ার পার্কটি ইজারা দেওয়া। অতিরিক্ত প্রবেশমূল্যের কারণে সেখানে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা প্রবেশের সুযোগ পায় না। একমাত্র জাতিসংঘ শিশু পার্কটিতে শিশুসহ সব বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় করেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর পার্কটি সংস্কারের জন্য সরদার অ্যান্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েছে কেসিসি। ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় তাদের পার্কের সীমানাপ্রাচীর ও গ্রিল সংস্কার, রং করা, চারটি খেলনা স্থাপন ও একটি মঞ্চ নির্মাণের কথা রয়েছে। গত রোববার থেকে তারা কাজ শুরু করেছে।
পার্কের উত্তর পাশে ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬ মিটার প্রস্থ এবং দুই ফুট উঁচু মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। একপাশে মঞ্চ হলেও ভবিষ্যতে এটিকে কেন্দ্র করেই পার্কে নিয়মিত সভা-সমাবেশের আয়োজন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে উন্মুক্ত সভা-সমাবেশের জন্য হাদিস পার্ক ব্যবহারের অনুমতি দেয় কেসিসি। সেখানে কেসিসির উদ্যোগে বড় মঞ্চ নির্মাণ করা রয়েছে। ফলে এখানে যে স্থায়ী মঞ্চ তৈরী করার উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে তা অপসরণ করতে হবে। নতুবা খুব শিঘ্রই মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে নগরবাসী।