নিজস্ব প্রতিবেদক:: রাজধানীর উত্তরায় একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার সকালের এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে দুই জন নারী, এক জন পুরুষ এবং এক জন শিশু রয়েছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ভবনের আসবাবপত্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো ধোঁয়ায় পুরো ভবন অন্ধকার হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। তবে পুরোপুরি আগুন নেভাতে সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন ৩ এর উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন লাগার পর দ্বিতীয় তলার আসবাবপত্র পুড়ে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়। এ বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সকালেই তিন জন নিহত হন। ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত ১৩ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুপুরে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফলে এ দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৬ এ পৌঁছাল। হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে এত বেশি হতাহত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তালহা বিন জসিম বলেন, দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটিতে প্রচুর পরিমাণে কাঠের ও ফোমের আসবাবপত্র ছিল। এসব দাহ্য বস্তুতে আগুন লাগায় তা দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে এবং ভয়াবহ কালো ধোঁয়া তৈরি হয়। ভবনের বাসিন্দারা সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় বা অপ্রস্তুত থাকায় ধোঁয়ার কারণে দ্রুত বের হতে পারেননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের আসবাবপত্র ছাই হয়ে পড়ে আছে। ভবনের দেয়ালগুলো ধোঁয়ায় কালচে হয়ে গেছে। ঘটনার পর ভবনের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রিয়জনকে হারানো এক স্বজনকে দেখা যায় নির্বাক হয়ে পুড়ে যাওয়া ভবনের দিকে তাকিয়ে কাঁদছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন দ্বিতীয় তলা থেকে শুরু হয়ে তিন তলার কিছু অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ভবনটিতে তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত করছে যে আর কেউ ভেতরে আটকে আছে কি না। রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোতে বারবার এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।