জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আমরা গণভোটের বিপক্ষে কিন্তু সংস্কারের পক্ষে। তাই না ভোট দিবো দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আমরা না ভোট দিবো দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে। গণভোট প্রসঙ্গে বলেন গণভোটের বিপক্ষে আমরা কিন্তু সংস্কারের পক্ষে।
জিএম কাদের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সাংবিধানিক সরকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছে এবং শপথের সময় সংবিধান সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের মতো একটি জটিল ও সংবেদনশীল বিষয় গণভোটের মাধ্যমে আনার কোনো সাংবিধানিক বিধান নেই। সংবিধান অনুযায়ী, কেবলমাত্র নির্বাচিত সংসদই নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে পারে।
তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয় সাধারণ মানুষের সামনে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা অবাস্তব ও অযৌক্তিক। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের বিষয় এভাবে উপস্থাপন করা অদ্ভুত। যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে, তারা বিষয়টি আদৌ বুঝে করেছে কি না তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এসব সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে দেশ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধান নির্বাহী বা প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত কোনো ক্ষমতা না দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার লাগাম টানতে হবে জবাবদিহিতার মাধ্যমে; কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা কেড়ে নিলে কোনো সরকারই কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এতে সরকার কয়েক দিনের বেশি টিকবে না, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হবে এবং দেশ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।
জিএম কাদের অভিযোগ করেন, এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন সংসদ ও সংবিধান নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পার্টির বক্তব্য শোনা হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় পার্টি এই গণভোট প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা ‘না’ ভোট দেবো এবং দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সবাইকে ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবো।
তিনি আরও দাবি করেন, এই গণভোটের প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশ রক্ষার স্বার্থে এই গণভোট বাতিল করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই নির্বাচনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই । প্রধান উপদেষ্টা নির্দিষ্ট কোন একটি দলের হয়ে কাজ করছেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জি এম কাদেরের।
জাতীয় পার্টিকে সবসময় দেশের শত্রু হিসেবে দেখা হয় এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় জনগণের যেকোন আন্দোলনের পক্ষে ছিলো আছে। জুলাই অভুত্থানে জাতীয় পার্টি সমর্থিত চার জন নিহত ও আহত হয়েছে। কোন ভাবেই জাতীয় পার্টি দেশের স্বার্থের বাইরে ছিলো না।
বর্তমান সরকার জার্মান নাৎসি বাহিনীর বর্বরতার সাথে তুলনা করে বলেন বর্তমান সরকার , সারাদেশে আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগের কর্মী ও নেতাদের উপর হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মতো নিপীড়ন চালচ্ছে। শুধু আওয়ামীলীগ নয় জাতীয় পার্টির সমর্থক কর্মীদেরও হামলার হুমকি দিচ্ছে৷ ভোট কেন্দ্রে যেনো না যেতে পারে এজন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে৷ জাতীয় পার্টি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে৷
আওয়ামিলীগ দোষর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, এমপি মন্ত্রীত্বের জন্য রাজনীতি করি নাই।
পরিশেষে তিনি গণভোটে না দেয়ার জন্য তার দলের নেতা কর্মীদের বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভোটের পরিবেশ আশা করেন৷ আগামী নির্বাচনে যেনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে৷