ক্রীড়া প্রতিবেদক:: আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার ঝড় থামছেই না। পাকিস্তানি কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফের পর এবার এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স। ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী এই ব্যাটার মনে করেন, বাংলাদেশের মতো একটি দলকে ছাড়া বিশ্বকাপের আয়োজন ক্রিকেটের জন্যই অত্যন্ত হতাশাজনক এবং দুঃখজনক একটি বিষয়।
নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৬০’-এ ভক্তদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ডি ভিলিয়ার্স এই মন্তব্য করেন। একজন দর্শক যখন জানতে চান যে, ভারতের মাটিতে নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং আইসিসির অনমনীয় মনোভাবকে তিনি কীভাবে দেখছেন, তখন মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত এই তারকা বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমি সরাসরি কোনো পক্ষের ওকালতি করতে চাই না। কারণ এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি মনে করি, পরিস্থিতি কখনোই এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয় যেখানে একটি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াতে হয়। এটি খেলাটির জন্য বড় একটি ধাক্কা।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সব সময়ই ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির মিশেলকে ঘৃণা করি। দুর্ভাগ্যবশত এবারও সেই রাজনীতির কারণেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’
আইসিসির নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ডি ভিলিয়ার্স সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘জানি না কারা এর নিয়ন্ত্রক বা কারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন, তবে এসব সমস্যার সমাধান মাঠের বাইরেই করা উচিত ছিল। একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মতো দলের অনুপস্থিতি সমর্থকদের জন্য বড় একটি শূন্যতা তৈরি করবে।
২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ২০ দলের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি ভারতের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় বিসিসিআই। এই ঘটনার পর থেকেই বিসিবি তাদের খেলোয়াড়, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ে।
৪ জানুয়ারি বিসিবি আইসিসিকে অনুরোধ করে যাতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয় (হাইব্রিড মডেল)। কিন্তু ২১ জানুয়ারি আইসিসি বোর্ড সভায় অধিকাংশ সদস্য দেশের ভোটে বাংলাদেশের সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় গত শনিবার আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ ‘সি’-তে অন্তর্ভুক্ত করে।
ডি ভিলিয়ার্সের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা প্রোটিয়া তারকার এই সহমর্মিতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া ছিল একটি স্ফুলিঙ্গ, যা শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ বর্জনের দিকে মোড় নিল। ডি ভিলিয়ার্সের মতো নিরপেক্ষ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই মন্তব্য আইসিসির ওপর নৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
ক্রিকেটবিশ্ব এখন দেখার অপেক্ষায়, বাংলাদেশের অনুপস্থিতি এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য বর্জনের হুমকির মুখে এই বিশ্বকাপের জৌলুস কতটা বজায় থাকে।