ডেস্ক:: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাতে যারা জীবন দিয়েছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পেয়েছি। ৫ আগস্টের পরিবর্তনকে ভুলে গেলে চলবে না। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে সড়কপথে নওগাঁ পৌঁছান তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে দেখছি শুধু সমস্যা আর দাবি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই অঞ্চলে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ কৃষি বিপ্লবের যে সূচনা করেছিলেন, সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। কৃষকদের ভালো রাখতে পারলেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি ঋণ পাবেন।”
নারীদের ক্ষমতায়নে প্রতিটি পরিবারের মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নারীদের সরাসরি আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া মেধাবী খেলোয়াড় তৈরি, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একটি মহল ভোট ছিনিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। সেই পরিকল্পনা রুখতে নির্বাচনের দিন সকাল সকাল পরিবারসহ কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নিন। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে দেশ গড়ার সুযোগ দিন।”
জনসভায় তারেক রহমান নওগাঁর ৬টি এবং জয়পুরহাটের ২টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন। প্রার্থীরা হলেন— নওগাঁ-১ মুস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ শামসুজোহা খান, নওগাঁ-৩ ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম ধুলু, নওগাঁ-৬ রেজাউল ইসলাম রেজু এবং জয়পুরহাট-১ আব্দুল বারী ও জয়পুরহাট-২ মাসুদ রানা।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নূর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ওবায়দুল রহমান চন্দন, আব্দুল মতিন, নজমুল হক সনিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।