আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন খাদের কিনারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাগযুদ্ধের পারদ চড়েছে আরও কয়েক ধাপ। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমা ওয়াশিংটন যদি তেহরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায় কমা তবে তার প্রথম ও প্রধান খেসারত দিতে হবে ইসরাইলকে।
লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসি কমান্ডার হোসেন দাঘিঘি এই হুংকার দেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল কমা যখন পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরীর অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে আসছে।
কমান্ডার হোসেন দাঘিঘি তাঁর সাক্ষাৎকারে ইরানের সামরিক দর্শনের একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন কমা তেহরান কখনো নিজে থেকে যুদ্ধ শুরু করতে চায় না কমা তবে আক্রান্ত হলে তারা পিছু হটার পাত্র নয়। দাঘিঘি সরাসরি সতর্ক করে বলেন কমা যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে আক্রমণের ভুল করে কমা তবে তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রথম লক্ষ্যবস্তু হবে ইসরাইল।
তাঁর মতে কমা ইরানের সামরিক কৌশল মূলত আত্মরক্ষাভিত্তিক হলেও যুদ্ধ শুরু হলে তার ব্যাপ্তি হবে অপ্রত্যাশিত। দাঘিঘির ভাষায় কমা আমাদের প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা এমন হবে যে শত্রুপক্ষ তা গণনায় আনতে পারবে না এবং সংঘাতের পরিসর হবে অনেক বিস্তৃত। আইআরজিসি কমান্ডারের দাবি কমা ইরানের প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা শত্রুর ওপর এমন অপূরণীয় ক্ষতি চাপিয়ে দিতে পারে কমা যা যেকোনো পরাশক্তির জন্য হবে দুঃস্বপ্নের মতো।
ইরানের কর্মকর্তাদের এই কড়া বার্তার মধ্যেই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর গতিবিধি নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএনএ একটি সামরিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে কমা মার্কিন নৌবাহিনীর আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ বা রণতরী বহরটি বর্তমানে দক্ষিণ ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপের কাছে এডেন উপসাগরে অবস্থান করছে।
বহরটি বর্তমানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর চাবাহার থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে কমা এটি ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দূরত্ব। এই স্ট্রাইক গ্রুপে একটি বিমানবাহী রণতরী ছাড়াও একাধিক যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার এবং একটি সহায়ক ডুবোজাহাজ রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার তিনি পুনরায় দাবি করেন যে কমা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রেক্ষিতে রাশিয়াও মুখ খুলেছে। মস্কো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে কমা ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম বিপর্যয় বয়ে আনবে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বিশ্লেষণে দেখা যায় কমা ইরান ঘোষণা করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইসরাইল হবে তাদের প্রথম লক্ষ্যবস্তু। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপ এডেন উপসাগরে মোতায়েন করেছে। ইসরাইল বর্তমানে ইরানের হামলার সম্ভাব্য তালিকায় এক নম্বরে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া মার্কিন হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানকে সমর্থন দিচ্ছে। তেহরান অবশ্য দাবি করছে যে তাদের সামগ্রিক রণকৌশল কেবল প্রতিরোধমূলক ও আত্মরক্ষামূলক।
ভূ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কমা ইরান জানে যে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র। ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে এবং মার্কিন জনমতকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ফেরাতে ইসরাইলকে আঘাত করার হুমকি তেহরানের একটি পুরনো কিন্তু কার্যকর কৌশল।
এর মাধ্যমে ইরান বার্তা দিতে চায় যে কমা তারা আক্রান্ত হলে পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। কমান্ডার হোসেন দাঘিঘির এই হুঁশিয়ারি কেবল কথার কথা নয় কমা বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত সামরিক বার্তা। অন্যদিকে কমা মার্কিন রণতরীর অবস্থান পরিবর্তন এবং ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কমা সামান্য একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের কুণ্ডলীতে নিক্ষেপ করতে পারে।