দাকোপ প্রতিনিধি:: কোন সহিংস ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খুলনা-১ আসনের দাকোপে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ১২ ফেব্রয়ারী বৃহম্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরোতিহীন ভাবে উপজেলার ৫৫টি ভোট কেন্দ্রের ২৮৮টি বুথে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচন চলাকালিন সময়ে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ৪শত গজ বা তার তৎসংলগ্ন এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছিলো চোখে পড়ার মত। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট প্রদান করতে পেরে তারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র গুলি সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার অপেক্ষা মহিলা ভোটারের উপস্থিত ছিল্াে চোখে পড়ার মত। চালনা কলেজে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা আমিরুনেচ্ছা বেগম বলেন,কোন হুমকি ধামকি বা কারো পরামর্শ ছাড়াই আমি আমার পছন্দনীয় প্রার্থীকে আমার ভোট দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। সকাল ১০টার দিকে শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নতুন ভোটার সন্ধ্যা রায় বলেন, আমার জীবনে এই প্রথম ভোটটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমি আমার পছন্দনীয় প্রার্থী প্রদান করতে পারায় আমি আনন্দিত বোদ করছি। ভোট দিতে আসার সময় আমাকে কোন প্রার্থীর লোকজন আমাকে অন্যকোন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে এমন কেউই কোন কথা বলেনি। দুপুর দেড়টায় কালাবগী সালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের ভিতরে থাকা দাড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট আশরাফ ঢালী এবং ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট মাইনুল ইসলাম জানান,কোন প্রার্থীর পক্ষের হুমকি ধামকি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট গ্রহণ হচ্ছে। কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেন্দ্রে কোন ভোটারদেরকে হয়রানি করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ১৯ মিনিটের সময় খুলনা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ¦ আমীল এজাজ খানের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপারে জানাতে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান,সকাল থেকেই প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কোন সহিংস ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন,এ নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি বলে ব্যক্ত করেন। অপর দিকে বিকাল ৪টায় ৫মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর ব্যবহৃত মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান,সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের ভিতর বা বাহিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এমন কোন তথ্য এখনো পর্যন্ত আমি পায়নি। তিনি অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন,এখন জনগণ তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন,তবে আমি এ নির্বাচনে শতভাগ বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করি।
এদিকে ভোট গ্রহণ চলাকালিন সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রির্টানিং অফিসার মোঃ বোরহান উদ্দিন মিঠুর নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বৃন্দ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কোষ্টগার্ড, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা মোবাইল টিমের মাধ্যমে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করায় ভোটাররাও নিবিঘেœ তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট প্রদান উৎসাহিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে কোন অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনা ছাড়াই উপজেলার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দাকোপ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুর রহমান জানান,নির্বাচন চলাকালিন সময়ে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সদস্য আনসার-ভিডিপি, পুলিশ, কোষ্টগার্ড সদস্যরা নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ৪টি টিমের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে টহল ব্যবস্থা অব্যহত রেখেছিলেন। এ ছাড়া ভোট কেন্দ্রের আশাপাশ এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড সদস্য, র্যাব এবং পুলিশের বেশ কয়েকটি স্ট্রাকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক সময়ে নিরাপত্তা প্রদান করেছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, এ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের ৫৫টি ভোট কেন্দ্রের ২৮৮টি বুথে ভোটাররা তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেছেন। নির্বাচনে ৫৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৮৮ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৫৭৬ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে ১লাখ ৩৬ হাজার ২০৮ জন ভোটা তাদের ভোট প্রয়োগের কথা ছিলো।