আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের বিশাল বিজয়ে বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর মিছিলে যুক্ত হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দনের পর প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই আন্তরিক বার্তা দুই দেশের বিশেষ করে দুই বাংলার সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চূড়ান্ত মহড়া হিসেবে পরিচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ে আনন্দের লহরী ছড়িয়ে পড়েছে ওপার বাংলাতেও। শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময় আজ দুপুর ১টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই বাংলার ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের টান ফুটিয়ে তোলেন।
তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তাঁর দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।
মমতা তাঁর পোস্টে কেবল রাজনৈতিক বিজয়কেই গুরুত্ব দেননি, বরং সামনে আগত পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংগত ও বন্ধুত্বপূর্ণ হবে।
আজ সকালেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা প্রমাণ করে যে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং সীমান্তবর্তী রাজ্য সরকার উভয় পক্ষই বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি এবং সীমান্ত বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে মমতা যে সৌজন্য দেখিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে দুই বাংলার অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন নতুন এক রাজনৈতিক যুগে পদার্পণ করছে।
আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত থাকলেও বিএনপির বিজয় এখন সুনিশ্চিত। প্রায় দুই দশক পর দলটি ক্ষমতায় ফিরছে এবং তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সবসময়ই ‘মা-মাটি-মানুষ’ এবং জনগণের রায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনেও সাধারণ মানুষের অভাবনীয় অংশগ্রহণ এবং ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়া রায়কে তিনি সম্মান জানিয়েছেন।
তাঁর এই শুভেচ্ছা বার্তা দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সংযোগ আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে আগামী দিনে কানেক্টিভিটি, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক বিনিময় কোন উচ্চতায় পৌঁছায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।