নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ কমান্ডে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে সরকার। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বর্তমান প্রধান মোঃ আলী হোসেন ফকির-কে পদোন্নতি দিয়ে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ কার্যকর করা হয়।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের লক্ষে এই নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্লেষকরা।
নিয়োগের পটভূমি ও প্রজ্ঞাপন
মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বর্তমান আইজিপির স্থলাভিষিক্ত হয়ে মোঃ আলী হোসেন ফকির এখন থেকে দেশের সমগ্র পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁর পেশাদারিত্ব এবং সততার ওপর আস্থা রেখে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত খতিয়ান
নতুন আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশের একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে তুলে ধরা হলো-
বিসিএস ব্যাচ: তিনি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের একজন গর্বিত সদস্য। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিজ জেলা: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা বাগেরহাটে।
পূর্বতন পদ: আইজিপি হওয়ার আগে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (APBN) প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এপিবিএন-এর আধুনিকায়ন এবং বিশেষ অপারেশন পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা: তিনি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের গুরুত্বপূর্ণ উইংগুলোতে কাজ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
একটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকির এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাঁর সামনে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ থাকবে।
বিগত কয়েক বছরে পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক এবং জনমনে আস্থার যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করা হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ। বাহিনীকে একটি জনবান্ধব এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
সারাদেশে মাদক এবং গ্যাং কালচারের মতো অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযানগুলোকে আরও গতিশীল ও নিরপেক্ষ করা। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও দক্ষ করে তোলা তাঁর মেয়াদের অন্যতম লক্ষ্য হবে।
থানা পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পুলিশের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে নতুন আইজিপির জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
১৫তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা মনে করছেন, মোঃ আলী হোসেন ফকিরের দীর্ঘ মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং কমান্ডিং দক্ষতা পুলিশ বাহিনীকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বিশেষ করে এপিবিএন প্রধান থাকাকালীন তিনি যেভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছিলেন, সেই একই কঠোরতা এবং পেশাদারিত্ব তিনি সমগ্র বাহিনীর ওপর প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের কৃতি সন্তান মোঃ আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। একজন ১৫তম ব্যাচের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি তাঁর নতুন পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং বাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন।