ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতদের একজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে বসবাসরত সিলেটের বড়লেখার সালেহ আহমেদ। আকাশ থেকে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি মারা যান। এছাড়া বাহরাইন-এ আরেক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় সেখানে তিনজন আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে নিহতদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে কুয়েত-এ ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চাঁদিনার দুলাল মিয়া। আহতরা চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে; দূত নিজেও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন-এর জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থান করছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সব নাবিক নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অঞ্চলটিতে বসবাসরত ছয় মিলিয়নের বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।