নিজস্ব প্রতিনিধি:: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেছেন, খুলনায় মানসিক রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। সমাজের কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা নানা কারণে মানসিক চাপের স্বীকার হয়ে থাকে। বিশেষ করে লেখা-পড়া শেষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়ায় পরিবারের চাহিদা মেটাতে না পেরে তারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ফলে নিজের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য কেউ কেউ ভিন্ন পথ অবলম্বন করে। এ বিষয়ে ধর্মীয় উপসনালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সচেতনতা তৈরীর পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসাকে সরকারের স্বাস্থ্য নীতির সাথে সমন্বয় ঘটাতে কাজ করতে হবে।
কেসিসি প্রশাসক বুধবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে ‘‘কাউন্সেলিং কর্নার বিষয়ক পরামর্শমূলক’’ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। প্রজেক্ট সমাপ্তির পর কাউন্সেলিং কর্নারটি চালু রাখার বিষয়ে কেসিসি’র সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা কারিতাস এ কর্মশালার আয়োজন করে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কারিতাস ‘‘আশ^াস-মানব পাচার থেকে উদ্ধার প্রাপ্ত নারী-পুরুষদের জন্য’’ প্রকল্পের আওতায় পাচার হওয়া নারী-পুরুষদের কাউন্সেলিংসহ মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে নগরীর শের-এ-বাংলা রোডস্থ নগর স্বাস্থ্য ভবনে একটি কাউন্সেলিং কর্নার স্থাপন করে। বিশেষ করে পাচার হওয়া নারী-পুরুষসহ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের মানসিক সুস্থতা ফিরয়ে আনা, ট্রমা কাটানো এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়তা করাই এর মূল লক্ষ্য। ২০২৫ সালের ২২ জুন উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এ কাউন্সেলিং কর্নারে ১’শ ৩ জন রোগীকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে।
কেসিসি’র সীমিত সামর্থের মধ্যে নগর স্বাস্থ্য ভবনে স্থাপিত কাউন্সেলিং কর্নারটি চালু রাখার বিষয়ে প্রচেষ্টা থাকবে উল্লেখ করে প্রশাসক জাতীয় পর্যায়ে কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে এ খাতকে সম্প্রসারণে সরকারের দৃষ্টিতে আনা এবং তিনি নিজেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে উল্লেখ করেন।
কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন প্রকল্প পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত, উপস্থাপনা করেন উইনরক ইন্টারন্যাশনাল-এর সিনিয়র ম্যানেজার এস কে নাজমুল ইসলাম এবং দলীয় কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এডভোকেসী স্পেশালিস্ট মৃম্ময় মহাজন।
বেলা ১১টায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘নবলোক’ আয়োজিত “সিটি লেভেল ফেস আউট’’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। সংস্থাটি ‘ওয়াশ ফর আরবান পুওর’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে। নবলোক-এর নির্বাহী পরিচালক কাজী রাজিব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য-খুলনার বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান, কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, জেলা প্রশাসকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট দীপেন সাধক রনি ও ওয়াটার এইড-এর এডভোকেসি লীড এ্যাড. ফাইয়াজ আহমেদ।
ওয়াটার এইড-এর অর্থায়নে সংস্থাটি নগরীর নি¤œ আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরাপদ পানি, স্বাস্থসম্মত টয়লেট ও ইতিবাচক স্বাস্থ্যাভ্যাস চর্চায় কাজ করছে। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন নবলোকের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নবলোকের প্রকল্প কর্মকর্তা সুজান্না লোপা বাড়ৈ। কেসিসি’র ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক শিক্ষা সহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, স্কাউট, গার্ল গাইডের সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের সুবিধাভোগী কমিউনিটির সিবিও নেতৃত্ববৃন্দসহ যুব নেতৃত্ববৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।