ডেস্ক:: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সেই আস্থা আবারও ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতেও যাতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও সরকার ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দলগুলোর পারস্পরিক ঐকমত্য থাকলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড় এই বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।