
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: দীর্ঘ এক মাস মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতরের দিনে পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া ব্রিজ ও আশপাশের নদীর পাড়ে নেমে আসে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে সকাল থেকেই মানুষের ঘোরাঘুরি শুরু হলেও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে ধর্মপ্রান মুসলমানেরা নির্ধারিত ঈদগাহে নামাজ পড়তে না পেরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের নামাজ শেষে দুপুর গড়াতেই দেখা মেলে রোদের ফলে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান গুলোতে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ এলাকায় মানুষের ঢল নামতে থাকে, যা সন্ধ্যার পর রূপ নেয় এক উৎসবমুখর পরিবেশে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই প্রাণচাঞ্চল্য।
তাছাড়া এবারের ঈদকে ঘিরে বোয়ালিয়া ব্রিজের নিচে বসে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। শত শত মানুষকে নাগরদোলায় চড়তে দেখা যায়। শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। সব মিলিয়ে বোয়ালিয়া ব্রিজ যেন দর্শনার্থীদের জন্য ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, আবার কেউ সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করতে ব্যস্ত ছিলেন। কপোতাক্ষ নদের নির্মল বাতাস, মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং উন্মুক্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে।
ঈদ উপলক্ষে পাইকগাছার বিভিন্ন ব্রিজ এলাকায় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত এসব ব্রিজ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। উপজেলায় উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ব্রিজগুলোই স্থানীয়দের প্রধান বিনোদনস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে।
উপজেলার রাড়ুলীতে স্যার পিসি রায়ের বসতভিটা এবং উপজেলার পৌর সদরে মধুমিতা পার্ক থাকলেও পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধার অভাবে সেখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। ফলে অনেকেই এসব স্থানের কথা প্রায় ভুলতেই বসেছেন। তবে শিববাটি ব্রিজের পাশে একটি ছোট পার্ক থাকায় সেখানে কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
নদীবেষ্টিত পাইকগাছা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ চারটি সেতু-পূর্বে শিবসা ব্রিজ ও হাড়িয়া ব্রিজ, দক্ষিণে শিববাটি ব্রিজ এবং পশ্চিমে কপোতাক্ষ নদের ওপর বোয়ালিয়া ব্রিজ। যে কোনো উৎসবেই এই তিনটি ব্রিজ দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এদিকে বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন বীজ উৎপাদন খামার এলাকায় রয়েছে ছোট একটি পার্কসদৃশ স্থান, যেখানে অনেকেই সারাবছর পিকনিক ও ছোটখাটো আয়োজন করে থাকেন। ঈদের দিনও সেখানে ছিল মানুষের ভিড়। পাশাপাশি অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে কপোতাক্ষ নদে নৌভ্রমণে মেতে ওঠেন।
দর্শনার্থী একাধিক ব্যক্তি বলেন, পাইকগাছায় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদের দিন আমরা বন্ধুরা মিলে বোয়ালিয়া ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে এসেছি। এখানে সেলফি তুলেছি, ফুচকা খেয়েছি-সব মিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে। উন্মুক্ত পরিবেশে সময় কাটিয়ে দারুণ লাগছে।
ঈদের দিনে বোয়ালিয়া ব্রিজ ও বোয়ালিয়া ফার্ম এলাকায় দর্শনার্থীদের ঢল নামায় ব্রিজের ওপর ও নিচে গড়ে ওঠে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ বিভিন্ন খাবারের ছোট ছোট দোকান। সব মিলিয়ে বোয়ালিয়া ব্রিজ এলাকা এক প্রাণবন্ত আনন্দমেলায় পরিণত হয়ে ঈদের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
Leave a Reply