আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় নিহত আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপমন্ত্রী সাইয়েদ মেহেদি তাবাতাবাই এই নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের নির্দেশনায় যুলঘাদর আজ থেকে তার নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আইআরজিসির উপকমান্ডার, জয়েন্ট স্টাফের প্রধান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিভাগের উপপ্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৭ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন। এ ছাড়া সাবেক কট্টরপন্থি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদের শাসনামলে তিনি উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন উচ্চপদে আসীন ছিলেন।
মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার মতে, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বর্তমানের এই সংকটময় মুহূর্তে তার কয়েক দশকের সামরিক, নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে হাসান রুহানি, আলী শামখানি এবং সাঈদ জালিলির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।