নিজস্ব প্রতিবেদক:: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার দুপুর থেকেই রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক।
আজকের বিকেলটি ছিল নয়াপল্টনের জন্য এক অনন্য উৎসবের দিন। নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কের কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত উত্তরা, মিরপুর, কোতোয়ালি, বাড্ডা ও মালিবাগ থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপর অবস্থান নিয়েছেন উজ্জীবিত কর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ইউনিটের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করছেন।
মুহূর্তে মুহূর্তে নেতাকর্মীদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে স্লোগান ‘নয়াপল্টনের রাজপথে, তারেক রহমান একসাথে’, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে’। স্লোগানের তালে তালে নেতাকর্মীদের মিছিল ও উচ্ছ্বাস পুরো এলাকায় এক অভাবনীয় আবহের সৃষ্টি করেছে।
কোতোয়ালি থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মো. আসাদুল্লাহ আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা, দেশের প্রধানমন্ত্রী আজকে আমাদের নিজ ঘরে (দলীয় কার্যালয়) আসছেন। এই দিনটির জন্য আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি। দুপুর থেকেই আমরা এখানে তাঁর পথ চেয়ে বসে আছি।
কেবল দলীয় পদধারী নেতাকর্মীরাই নন, তারেক রহমানকে একনজর দেখতে ভিড় করেছেন সাধারণ সমর্থক ও সাধারণ নাগরিকরাও। মালিবাগের প্রবীণ বাসিন্দা শামসুল হক নিজেকে বিএনপির সমর্থক পরিচয় দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান আমাদের এলাকায় আসবেন শুনে আর ঘরে থাকতে পারলাম না। উনাকে সরাসরি আগে কোনোদিন দেখিনি। তাই কাউকে না জানিয়েই একটু দেখতে চলে আসলাম।
নেতাকর্মীদের এই বিশাল সমাগমের কারণে নয়াপল্টন ও এর সংযোগকারী সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল অভিমুখে যানবাহন চলাচল প্রায় থমকে গেছে। সড়কের এক পাশ দিয়ে কোনোমতে ধীরগতিতে গাড়ি চলছে। ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ থাকায় ভোগান্তির চেয়ে উচ্ছ্বাসই ছিল বেশি প্রকট।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড এবং কাকরাইল এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে এসএসএফ (SSF) এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর কেবল একটি দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন নয়, বরং এটি দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক শক্তিশালী প্রতীক। দীর্ঘ প্রবাস জীবন এবং চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও নয়াপল্টনে মানুষের ভিড় কমেনি, বরং সময়ের সাথে তা আরও বাড়ছে। এখন সবার অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াপল্টনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়বেন। আজকের এই সমাগম প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এবং দেশের রাজনীতিতে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।