ডেস্ক:: হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘তেহরান টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করেছে ইরান সরকার।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতার মৃত্যু হতে যাচ্ছে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত তা-ই হতে চলেছে।’
ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পাল্টা হামলা চালানো হবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যদিও মঙ্গলবার সকালেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে ইরানের সর্বশেষ এই পদক্ষেপে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
এদিকে সিএনএন ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এবং যোগাযোগ সচল রাখতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব একটি বড় ধরনের সমঝোতা বা 'ব্রেকথ্রু' নিয়ে কাজ করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এড়ানো যাবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।