আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সকল সমুদ্র বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে অবরুদ্ধ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। ওমান উপসাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্ব অংশ দিয়ে ইরানের কোনো বন্দরে জাহাজ প্রবেশ করতে বা সেখান থেকে বের হতে পারবে না। তবে এই রুটের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের জাহাজ মাঝপথে আটকানো হবে। প্রয়োজনে জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা বা তা জব্দ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীর এক মুখপাত্র পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সকল বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে শত্রুরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে যাতায়াত করে। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং মূল্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।