ডেস্ক:: বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অবরোধের আশঙ্কা এবং শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে।
সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অবরোধের হুমকিকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এর যেকোনো ধরনের বাধা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ ব্যাহত হলে ইরানি তেল বাজার থেকে কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
হেজ ফান্ড ও গবেষণা সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১১০ ডলারেরও ওপরে যেতে পারে। কেউ কেউ সতর্ক করে বলছেন, সংঘাত বাড়লে শুধু দাম নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এর আগে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশায় বাজার কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু আলোচনার অচলাবস্থা ও নতুন উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আবারও উল্টে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক তেলবাজার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে দামের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।