ডেস্ক:: স্বৈরাচারী শাসক দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তাদের প্রেতাত্মারা এখনো দেশে সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার বিকেলে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আপনারা দেখেছেন নির্বাচনে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সংবাদমাধ্যমেও তেমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। অথচ পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বায়তুল মোকাররম এলাকায়। যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিগুলোতে বাধা দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।” তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ এখনো বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “এই বাংলাদেশ আমাদের সবার শেষ ঠিকানা। আমাদের বিদেশে কোনো ঠিকানা নেই। যেহেতু এই দেশই আমাদের পরিচয়, তাই একে আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে।” তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষে অবস্থিত মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এর আগে দুপুরে তিনি টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।