বাগেরহাট প্রতিনিধি:: বাগেরহাট সদর উপজেলায় এক নারীর মাছের ঘের দখল, ধান কেটে নেওয়া, মারধর ও স্বর্ণালংকারসহ নগদ সম্পদ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সেলিনা পারভীন থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নিতে পুলিশ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার ৪নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদাইড় মৌজায় প্রায় ০.৭৮ একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধান চাষ ও মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছেন সেলিনা পারভীন (৪৬)। একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি পূর্ব থেকেই ওই ঘের দখলের চেষ্টা করে আসছিল বলে তিনি দাবি করেন। তখন নিরুপায় হয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪ ধারায় একটি মামলা করে, যাহার নাম্বার মিস মামলা ৯৭/২৫ (বাগেরহাট) যাহা এখন ও চলমান আছে। সেলিনা পারভীনের অভিযোগ, গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্তরা তার জমিতে প্রবেশ করে ইরি ধান কেটে নিয়ে যায়। পরদিন ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে তারা পুনরায় এসে তার মৎস্য ঘের থেকে বাগদা চিংড়ি, রুই, কাতলাসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় ১৫ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) ও একটি মোবাইল ফোন (মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কুলিয়াদাইড় এলাকার মৃত রহমান শেখ এর পুত্ররা রুহুল শেখ, রেজা শেখ, হাফিজ শেখ, ফজু শেখ, মনি শেখ ও একই গ্রামের মৃত আক্কাস শেখের ছেলে হানেফ শেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী। সেলিনা পারভীন আরও জানান, অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং পুনরায় ঘেরে গেলে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি আইনের আশ্রয় নিতে থানায় গেছি, কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ইউপি সদস্য রেজা শেখ যে বিগত আওয়ামী শাসন আমলে সদর থানা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন, কিন্তু ৫ ই আগস্টের পরে ভোল্ট বদল করে সে বাগিয়ে নিয়েছে ৪ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বি এন পির সহ সভাপতির পদ,তাই সে নব্য পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।
তবে এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভুক্ত ভুগি গেলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আই দিপু মন্ডল কে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেন। সে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে ডাকে, উভয়ের কথা বার্তা শুনে জানতে পারে এ বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা আছে। তাই মামলা থাকায় উভয় পক্ষকে উচ্চ আদালতে মাধ্যমে সমাধান করে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়া আসেন।