আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির নৌবাহিনী নিজস্ব প্রযুক্তিতে ‘মুগেম’ নামক একটি বিশাল বিমানবাহী রণতরি নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী বছরের শেষ নাগাদ এই রণতরির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হতে পারে।
তুরস্কের নৌবাহিনীর ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। ২৮৫ মিটার দীর্ঘ এই রণতরিটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার টন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই জাহাজে অন্তত ৬০টি যুদ্ধবিমান বহনের সক্ষমতা থাকবে। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন ও অবতরণের সুবিধাসহ এতে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যুক্ত করা হচ্ছে।
তুরস্কের নৌবাহিনী প্রধান এরকুমেন্ত তাতলোইগুর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তুরস্কের সামরিক শক্তি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উপস্থিতিতে এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক তাদের সমুদ্র ও আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে দেশটি ড্রোন প্রযুক্তি, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।
এই রণতরিতে তুরস্কের নিজস্ব তৈরি মানববিহীন যুদ্ধবিমান ‘কিজিলেলমা’, ‘হুরজেট’ এবং পঞ্চম প্রজন্মের ‘কান’ ফাইটারের নৌ সংস্করণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ‘বায়রাকতার টিবি৩’ ড্রোনও এই যুদ্ধজাহাজে মোতায়েন করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিমানবাহী রণতরি তুরস্কের আন্তর্জাতিক সামরিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে, তবে এটি আঞ্চলিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।