ডেস্ক:: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান আজ দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং ক্রীড়াকে নিছক বিনোদনের গণ্ডি থেকে বের করে একটি সম্মানজনক পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই দেশব্যাপী ক্রীড়া উৎসবের শুভ সূচনা করেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের শিশুরা কেবল আগামীর ভবিষ্যৎ নয়, তারা বর্তমানেরই প্রাণশক্তি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি প্রতিযোগিতার নাম নয়, এটি একটি জাতীয় স্বপ্ন। আমরা চাই আমাদের কিশোর-কিশোরীরা খেলাধুলাকে তাদের কর্মজীবন হিসেবে বেছে নিক। সরকার এমন এক পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে একজন খেলোয়াড় গর্বের সাথে বলতে পারবেন যে ক্রীড়াই তাঁর পেশা এবং জীবিকার প্রধান উৎস।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে।
সিলেট জেলা স্টেডিয়াম আজ এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। বর্ণিল বেলুন, ফেস্টুন আর হাজারো শিশুর পদচারণায় মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খুদে অ্যাথলেটরা বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে অংশ নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের সালাম গ্রহণ করেন।
এ সময় নতুন কুঁড়ির থিম সং-এর সাথে কয়েক শ’ শিশু এক মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। অনুষ্ঠানে আধুনিক ক্রীড়া প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনীও করা হয়, যা ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খেলাধুলাকে একটি আধুনিক শিল্প ও লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় থেকে মেধা অন্বেষণ করা হবে। বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বৃত্তি এবং উন্নত পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ক্রীড়া একাডেমি স্থাপন করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করবে সরকার।
সিলেটে উদ্বোধনের পাশাপাশি আজ একযোগে দেশের ৬৪টি জেলাতেই এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসকদের তত্তাবধানে স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলোতেও প্রাথমিক পর্যায়ের বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার এবং দাবাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অন্তত দশ লক্ষ শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, সিলেটের এই পুণ্যভূমি থেকে যে মশাল আজ জ্বলে উঠল, তা সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। আমাদের সন্তানরা মাঠ কাঁপাবে, বিশ্বের বুকে পতাকাকে উড্ডীন করবে, এই আমার প্রত্যাশা। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
খেলাধুলাকে গঠনমূলক কর্মজীবন হিসেবে গড়ে তোলার এই সাহসী পদক্ষেপ একটি সুস্থ, সবল ও আত্মবিশ্বাসী জাতি গঠনে সহায়ক হবে। আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এক নতুন নেতৃত্বের অধীনে নতুন প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পেয়েছে। সিলেটের মাটি থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা দেশের প্রতিটি জনপদে পৌঁছে দেবে সমৃদ্ধির বার্তা।