বিনোদন ডেস্ক:: শাহরুখ খান, নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুই হাত প্রসারিত করা সেই চিরচেনা ভঙ্গি, এক চিলতে হাসি আর এক পাহাড় সমান আত্মবিশ্বাস। সম্প্রতি ‘শাহরুখ খান ইউনিভার্স ফ্যান ক্লাব’ থেকে করা একটি টুইট আবারো প্রমাণ করে দিল কেন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনাকর্ষণকারী তারকা বলা হয়।
টুইটটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শাহরুখ বিশ্বের যেখানেই যান, সেখানেই জনসমুদ্র নামে। তিনি প্রকৃত অর্থেই রাজা। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে এবং তার আসন্ন সিনেমা ‘কিং’ এর উন্মাদনা নিয়ে তৈরি এই বিশেষ প্রতিবেদন।
শাহরুখ খান কেবল একজন চলচ্চিত্র তারকা নন, তিনি একটি আবেগ। ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের আনাচে-কানাচে তার যে জনপ্রিয়তা, তা বর্তমান সময়ের অনেক হলিউড তারকার কাছেও ঈর্ষণীয়। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা থেকে শুরু করে মরক্কোর রাস্তা কিংবা জার্মানির কনকনে শীত, শাহরুখের এক ঝলক পেতে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দ্বিধা করে না। তার এই বিশাল জনপ্রিয়তার কারণ কেবল তার অভিনয় নয়, বরং তার ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা।
টুইটটিতে হ্যাশট্যাগ হিসেবে কিংস এবং কিংস টাইটেল রিভিল ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত তার আগামী চলচ্চিত্র ‘কিং’ কে নির্দেশ করছে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ এবং ‘ডানকি’ দিয়ে তিনি যেভাবে বক্স অফিসে রাজত্ব করেছেন, তাতে ‘কিং’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এখন আকাশচুম্বী। ভক্তদের মতে, শাহরুখের জন্য ‘কিং’ কেবল একটি সিনেমার নাম নয়, এটিই তার পরিচয়।
জনাকর্ষণ করার ক্ষমতা সবার থাকে না। শাহরুখের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি যখন কোনো শপিং মল বা কোনো অনুষ্ঠানে যান, সেখানে নিরাপত্তা কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত তার সর্বজনীন আবেদন। শাহরুখ এমন একজন অভিনেতা যার সিনেমা শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ উপভোগ করে।
দ্বিতীয়ত তার ব্যক্তিত্ব ও রসবোধ। তার সাক্ষাৎকার এবং জনসমক্ষে কথা বলার ভঙ্গি মানুষকে মুগ্ধ করে। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং হাস্যরসাত্মক কথা বলতে পারেন, যা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে। তৃতীয়ত বিদেশে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমেরিকায় ভারতীয় সিনেমার মুখ হিসেবে তাকেই চেনা হয়। বিদেশের মাটিতে তার সিনেমার সংগ্রহ অনেক সময় স্থানীয় সিনেমার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমানে ‘ইটস কিং টাইম’ এবং ‘কিং খান’ ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এই সিনেমায় শাহরুখকে একেবারে ভিন্ন একটি লুকে দেখা যাবে, যেখানে অ্যাকশন এবং ড্রামার এক অনন্য মিশেল থাকবে। ‘পাঠান’ এবং ‘জওয়ান’ এর সাফল্যের পর দর্শকরা আশা করছেন, ‘কিং’ সিনেমাটি বক্স অফিসের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেবে।
ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নাম ঘোষণার সেই মুহূর্তটির জন্য। শাহরুখের ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি যে ধরনের চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করছেন, তা নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
টুইটে বলা হয়েছে, যেখানেই তিনি যান, বিশ্ব সেখানে হাজির হয়। এটি কোনো অতিরঞ্জিত কথা নয়। লকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হোক বা কোনো ব্র্যান্ড প্রমোশন, শাহরুখের উপস্থিতি মানেই সেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। এই ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছেন গত তিন দশকের কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে মুম্বাইয়ের রাজপুত্র হয়ে ওঠার এই গল্পই মানুষকে বারবার তার প্রতি আকৃষ্ট করে।
শাহরুখ খান কেবল রূপালি পর্দার নায়ক নন, তিনি কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা। ‘কিং’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারও তার সিংহাসন পাকাপোক্ত করতে আসছেন। ভক্তদের এই উন্মাদনা এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে পাওয়া ভালোবাসা প্রমাণ করে যে, সময়ের সাথে সাথে তার জৌলুস কমেনি, বরং বেড়েছে। ‘কিং’ সিনেমার নাম ঘোষণার মাধ্যমে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, আর বিশ্ববাসী আবারও সেই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
শাহরুখের এই জয়যাত্রা চিরস্থায়ী হোক, কারণ তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, হেরে গিয়ে যে জেতে তাকেই বাজিগর বলে। আর এখন সময় হয়েছে সেই বাজিগরের ‘কিং’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার।