আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের বহুল আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর সাবেক প্রধান এ এস দুলাত বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার দীর্ঘদিনের ভারতীয় কৌশল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।
একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারণা, আন্তর্জাতিক লবিং ও বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলেও ইসলামাবাদকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করা সম্ভব হয়নি।
দুলাতের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত দীর্ঘ সময় ধরে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি। গত বছরের সীমান্ত সংঘাত ও পরবর্তীতে ৮৭ ঘণ্টাব্যাপী সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই সংঘাতে পাকিস্তান ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
দুলাত আরও বলেন, ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করে পাকিস্তান ভবিষ্যতে ভেঙে পড়বে। তবে তার মতে, বাস্তবতা ভিন্ন এবং পাকিস্তানকে দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখার ধারণা সঠিক নয়।
তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতই উল্টো কূটনৈতিক চাপে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্পর্কে দুলাত বলেন, তিনি ক্রমেই আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন।
এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যোগাযোগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ, অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার অনুভূতি বিরাজ করছে, যা সংকটের মূল কারণগুলোর একটি।