চাঁদপুর:: চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে সরকারের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের কল্যাণে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, এমন পরিকল্পনা নিতে হবে যা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করবে এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে। তিনি সবাইকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
খাল পুনর্খননের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রায় পাঁচ দশক আগে যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, আজ সেই ধারাবাহিকতা আবার চালু করা হচ্ছে। কৃষির উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী খোর্দ্দ খালের পুনর্খননস্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন।
১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খোর্দ্দ খালটি ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত। ১৯৭৮ সালে খালটি প্রথম খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি কার্যকারিতা হারালেও পুনর্খননের উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, খালটি পুনরুজ্জীবিত হলে কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং ফসল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল পুনর্খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন মা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা পাবেন, যা সন্তানদের পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা যাবে। অন্তর্বর্তী বাজেট থেকে এই সহায়তা শুরু হলেও আগামী বাজেটে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
সমাবেশে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ কোটি মানুষের চল্লিশ কোটি হাত একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়াও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।