স্পোর্টস ডেস্ক:: বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি। অবশেষে ১৩৪ রানের সেই প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। সালমানের বিদায়ের পর উইকেটে এসে মাত্র ৬ বল টিকতে পেরেছেন হাসান আলি। তাইজুলের পরের ওভারেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। শেষ বিকেলে মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে এই দুই উইকেট তুলে নিয়ে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা।
মঙ্গলবার চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। ম্যাচ ও সিরিজ জিততে শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ৩ উইকেট। তবে পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ১২১ রানে পিছিয়ে রয়েছে। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৩২ রান।
গতকাল শেষ বিকেলে পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামলেও ২ ওভার শেষে কোনো রান তুলতে পারেনি। আজ পাকিস্তানের দুই ওপেনার মিলে খেলেন আরও ৮ ওভার। সব মিলিয়ে ইনিংসের ১১তম ওভারে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন নাহিদ রানা। রানার অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে গতির কাছে পরাস্ত হন আব্দুল্লাহ ফজল। বল ঠিকঠাক ব্যাটে না লাগায় গালিতে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়েন তিনি। মিরপুরে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি ওপেনার এবার ফেরেন মাত্র ৬ রানে।
দলীয় ১৪ রানের ব্যবধানে আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মিরাজ। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করলেও বল ভেতরে ঢুকে পড়ায় লাইন মিস করেন আজান। মিরাজের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেয় পাকিস্তান। তবে ‘আম্পায়ার্স কলে’ ২১ রান করা আজানকে বিদায় নিতে হয়। ৪১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দারুণ এক জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের জুটিটি যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল, তখনই বাধা হয়ে দাঁড়ান তাইজুল। ৪৭ রান করা বাবরকে সাজঘরে পাঠান তিনি।
সিরিজ জুড়ে ব্যর্থ সউদ শাকিল এবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। ২১ বল খেলে মাত্র ৬ রান করা এই মিডল অর্ডার ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ রানা। এরপর শান মাসুদও আর বেশি সময় ক্রিজে টিকতে পারেননি। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা এই ব্যাটারকে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানান তাইজুল ইসলাম। মাসুদ ৭১ রান করে ফিরলে ১৬২ রানে ৫ম উইকেট হারায় পাকিস্তান।
তখন মনে হচ্ছিল আজই হয়তো ম্যাচের ফয়সালা হয়ে যাবে। তবে ষষ্ঠ উইকেটে রিজওয়ান-সালমান জুটি গড়েন ১৩৪ রানের প্রতিরোধ। এদিন বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাইজুল ইসলাম। চতুর্থ দিনের পিচের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৪টি উইকেট। এ ছাড়া নাহিদ রানা ২টি এবং মেহেদি হাসান মিরাজ ১টি উইকেট লাভ করেন।