ডেস্ক:: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আসক্তি থেকে রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার ২০টি সংগঠন।
রোববার তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) ও উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান (উবিনীগ) যৌথভাবে এ স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের মূল্য ১৪০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।
সংগঠনগুলোর দাবি, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। তামাকপণ্যের সহজলভ্যতার কারণে বিশেষ করে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমান বহুস্তরবিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ন্যূনতম ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরের সিগারেট ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর বৃদ্ধি এবং সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে শুধু সিগারেট খাত থেকেই প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন এবং প্রায় তিন লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত হবে।
সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আগামী জাতীয় বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর তামাক কর ও মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।