আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ঘোষিত হোল্ডিং সেন্টারে আটকে রাখা প্রায় ৩৫০ জনের মধ্য থেকে এই ১০০ জনকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমঝোতা এবং নাগরিকত্বের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তবে এখনো সীমান্ত এলাকায় এবং হোল্ডিং সেন্টারে নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা আরও প্রায় ৫০০ মানুষ অপেক্ষারত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারতীয় সীমান্তে অপেক্ষার এই চিত্র গত এক সপ্তাহ ধরেই চলছে। পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত জড়ো হচ্ছেন এসব মানুষ। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টা (ভারতীয় সময়) পর্যন্ত বিএসএফের তালিকায় নতুন করে নাম তুলেছেন আরও ১১৬ জন। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে ভিজে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা দেশে ফেরার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন যানবাহনে করে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর বিএসএফ লাইনে দাঁড় করিয়ে তাঁদের নাম-ঠিকানা ও বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশি হওয়ার প্রমাণপত্র থাকলে তা জমা নিয়ে তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিজিবির কাছে পাঠানো হচ্ছে।
ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাকিমপুর, স্বরূপনগর বাজার ও তেঁতুলিয়া সীমান্ত এলাকার চারটি হোল্ডিং সেন্টারে অন্তত সাড়ে ৩০০ মানুষকে রাখা হয়েছিল। বিএসএফ জানায়, তাদের মধ্য থেকেই আজ প্রথম দফায় ১০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সীমান্তে অপেক্ষারত ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে গৃহকর্মী বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। অনেকে ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছিলেন। তবে সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর তৈরি হওয়া আতঙ্কের কারণে তাঁরা নিজের দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাকিমপুর সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে বিএসএফ।