পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: পাইকগাছায় বসতঘরের চালের টিন ও বেড়া খুলে নেওয়া সহ প্রাণনাশের হুমকিতে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার(১ জুন) এ অভিযোগটি করেন উপজেলা মৌখালী গ্রামের আজগর আলীর পুত্র মো. আমির হামজা (৩৮)।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পৌরসভার গোপালপুর মৌজায় তার শাশুড়ি আমেনা বেগমের মালিকানাধীন জমিতে পরিবার নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। তবে সম্প্রতি তার শ্বশুর মরহুম আফিল গাজীর প্রথম পক্ষের ছেলে রবিউল ইসলাম (গোলাম রব্বানী) ও মেয়ে শাহিনা বেগম ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে সেখানে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা কয়েকজন লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বসতঘরের টিন ও বেড়া খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আমির হামজা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মরহুম আফিল গাজী জীবদ্দশায় গোপালপুর মৌজায় তার নিজস্ব ৯ শতক ২৫ পয়েন্ট জমি ২০২৪ সালের ১০ জুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা বেগম (আমির হামজার শাশুড়ীর) নামে হেবা দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর আমেনা বেগম উক্ত জমি নিজের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে জমিটি খতিয়ান নং-২৫/৮৫৭-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভুক্তভোগী আমির হামজা বলেন, বিবাদীরা যেকোনো সময় আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে শাহিনা বেগম বলেন, আমার পিতার স্বাক্ষর জাল করে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। হেবা দলিলে থাকা স্বাক্ষরটি আমার পিতার নয়। আমরা বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার তদন্তকারী এএসআই হারুনুর রশীদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য বিবাদী পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, জমির পূর্বতন মালিক আফিল গাজী গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।