ডেস্ক:: মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এর আগে একই দিন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহটি অনেক দিন পড়ে থাকায় পচন ধরেছিল এবং তাতে পোকা দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাসাটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো অবস্থায় ছিল। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মেয়ের বাসায় বসবাস করতেন। যে বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি অগোছালো ও নোংরা অবস্থায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, নুরজাহান বেগমের সন্তানদের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একজন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকার পরও কেন একজন বৃদ্ধা মায়ের এমন পরিণতি হলো।
এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন। আইন অনুযায়ী, সন্তানদের পিতা-মাতার ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বিধানও রয়েছে।