এম জালাল উদ্দীন:পাইকগাছা:: পাইকগাছায় দীর্ঘদিনের অবহেলিত মাটির কাঁচা সড়ক এখন এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) সড়কে রূপ নিয়েছে। কয়েক যুগের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে নতুন এ সড়ক স্থানীয় হাজারো মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বৃহত্তর চাঁদখালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ওড়াবুনিয়া গ্রামের এ সড়কটি দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। গজালিয়া চর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ওড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অভিমুখী এক কিলোমিটার সড়কটি এতদিন কাঁচা মাটির রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদাময় হয়ে পড়ত, ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, মৎস্যঘের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় হাজারো সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হতো।
বিশেষ করে কৃষি ও মৎস্যপণ্য পরিবহন, রোগী বহন এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে এলাকাবাসীকে দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসইকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় সড়কটি এইচবিবি নির্মাণ করা হয়। গত ২৬ মার্চ ২০২৬ টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা ৪৪ পয়সা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮০ লাখ ৬৯ হাজার ৯১৮ টাকা ৮৭ পয়সা। গত ২৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে আগামী ১০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালেহ এন্টারপ্রাইজ এর পক্ষে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মো. সাইফুল ইসলাম।
গত ৭ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থানীয়রা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন। নতুন সড়কটি ব্যবহারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে তারা রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সড়কটি নির্মিত হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হয়েছে। এখন বর্ষা মৌসুমেও সহজে চলাচল করা যাবে এবং কৃষি ও মৎস্যপণ্য পরিবহনও অনেক সহজ হবে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে সোমবার (৮ জুন) নবনির্মিত সড়কটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজীব বিশ্বাস। সড়কটির বাস্তবায়ন দায়িত্বের অংশ হিসেবে তারা নির্মাণকাজের মান ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প অব্যাহত থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।