বাগেরহাট প্রতিনিধি:: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার টেংরাখালী গ্রামে বসতঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৪ আসামির জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) আসামিরা বাগেরহাট দ্রুত বিচার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক এস এম নাহিদ নেওয়াজ শুনানি শেষে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। হাজরাখালী গ্রামের আফসার আলী শেখের দুই ছেলে আনিসুল ইসলাম শেখ ও মহিদুল ইসলাম শেখ, মৃত সফিজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে মজিবর মোল্লা এবং মৃত ইসহাক হাওলাদারের ছেলে আঃ কুদ্দুস হাওলাদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেংরাখালী গ্রামের রাস্তার পাশের ৬ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আফসার আলী ও হালিমা খানমের (চাচা-ভাইজি) মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৬ জুন (শনিবার) দুপুরে এই বিরোধের জেরে হালিমা খানমের বাড়িতে হামলা, ঘর ভাঙচুর ও জমি দখলের ঘটনা ঘটে। বাধা দিতে গিয়ে হালিমা খানমের মেয়ে সেলিনা বেগম (৪৫) আহত হন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কচুয়া থানা পুলিশ।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কচুয়া থানায় মামলা দিতে কচুয়া থানা মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বাদী আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত কচুয়া থানাকে মামলা রেকর্ড করে কোর্টে পাঠাতে বলেন। সেমতে
গত ১৩ জুন (১৩-০৬-২০২৬) কচুয়া থানায় মামলাটি দায়ের রেকর্ড হয়।
ভুক্তভোগী হালিমা খানম বলেন: "জমিটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং ৩০ বছর ধরে আমরা এটি ভোগদখল করছিলাম। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক এটি দখলের চেষ্টা চালায় এবং শনিবার হামলা চালিয়ে ঘর ভাঙচুর করে।"
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছিল যে তারা রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার ছিলেন এবং শুধু নিজেদের জমির দখল নিয়েছেন, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে মামলা দায়েরের পর আজ আদালতের আদেশে ৪ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হলো।##
বাগেরহাটে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন: জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে তার পরিবার। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছোট ভাই এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোড়ল এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুর রহমান তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও হুমকির তীব্র অভিযোগ তোলেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও মামলা
লিখিত বক্তব্যে হাফিজুর রহমান জানান, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল ও ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল আড়পাড়া থেকে ফকিরহাট যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়ল নিহত হন এবং আব্দুল্লাহ মোড়ল গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ১১ জুন ফকিরহাট থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হাফিজুর রহমান মোড়ল নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দাবি করে বলেন,
"আমার ভাইকে হত্যার আগে জামায়াত নেতারা আমাকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করে বলেছিল, 'আব্দুল্লাহ মোড়ল ও বাদল মোড়ল মার্ডার হলে এর দায়ভার কে নেবে?' তারা বার বার আমাদের জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যেতে নিষেধ করেছিল। এতেই প্রমাণিত হয় এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তারাই জড়িত।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াত নেতারা বিভিন্ন প্রতিবাদ সভায় মিথ্যাচার করছেন। জামায়াত নেতাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে তার ভাইকে 'অভ্যন্তরীণ কোন্দলে' হত্যা করা হয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তাও মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
মামলা দায়েরের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসামি গ্রেপ্তারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের ভাই। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রাজনীতি ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে যেন আমার ভাইয়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং জেলা বিএনপির নেতৃ বৃন্দ স্থানীয় আপামর জনগন উপস্থিত ছিলেন।