আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ঘটা এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল সংখ্যক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই জোড়া দুর্যোগে পুরো দেশ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা সম্ভব হয়নি।
তবে ইউএসজিএস-এর এক বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পটির তীব্রতা ও গভীরতার কারণে অঞ্চলটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা রয়েছে ৩০ শতাংশ।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোড়া ভূমিকম্পের সময় রাজধানী কারাকাসে অত্যন্ত প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়। দুর্যোগের কারণে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন এবং তাঁরা অনবরত উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক জরুরি বার্তায় বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবন ও বাড়িঘর অবিলম্বে ছেড়ে খোলা এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে দেশটির উদ্ধারকর্মীরা ও বিশেষ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বড় ধরনের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। মূল ভূকম্পনের পর আরও বড় ধরনের আফটারশক বা অনুকম্পনের আশঙ্কায় জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির প্রশাসন।