আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)।
শুক্রবার তেহরানে এই আন্তর্জাতিক বিদায় অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা উপস্থিত হয়েছেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চ মাসে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে ইরানের ওপর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া পিছিয়ে এবার সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও বিদায় সূচির আয়োজন করা হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা এবং খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় সশরীরে অংশ নেবেন না বলে তাঁর ভারত-প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে জানাজাকে কেন্দ্র করে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, জানাজার সময় বা এর আগে ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
যেসব দেশের প্রতিনিধি থাকছেন:
রাশিয়া: দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন।
চীন: চীনের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন দেশটির জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই।
তুরস্ক: দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ তুরস্কের প্রতিনিধি হিসেবে জানাজায় যোগ দিচ্ছেন।
ভারত: ভারতের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা, বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও কাশ্মীরের রাজনীতিক মেহবুবা মুফতি।
বাংলাদেশ: বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ তেহরানের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
আফগানিস্তান: তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারেরও এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি: আজ তেহরানে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরুর পর শনি ও রোববার রাজধানীতে জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধার জন্য খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। এরপর সোম ও মঙ্গলবার জানাজার কাফেলা কোমে যাবে।
বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা শেষে আগামী শুক্রবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।
আয়োজকদের ধারণা, ১৯৮৯ সালে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া প্রায় এক কোটি মানুষের রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে যেতে পারে