চিতলমারী প্রতিনিধি:: সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ২ টা। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকুলজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভোর থেকে হচ্ছিল মাঝারী ও ভারী বৃষ্টিপাত। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া। এরই মাঝে উপজেলার ৪৯ নং সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্ধায় তৃতীয় শ্রেণীর পাঠদান চলছিল। একহাতে মাথায় ছাতা আর অন্য হাতে কলম নিয়ে শিক্ষিকা লিলি মজুমদার বোর্ডে লিখছিলেন। আর বাতাসে ছুটে আসা বৃষ্টির পানিতে আধা-ভেজা শিক্ষার্থীরা পড়া বোঝার চেষ্টা করছিল। বারান্দার পাশে দেওয়া পলিথিন রক্ষা করতে পারেনি তাদের ভিজে যাওয়া। মাঝে-মধ্যে বাতাসের তোড়ে অনেকের বইÑখাতা উড়ে ভিজেছে।
জানা গেছে, সুরশাইল সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে চলে আসছে। বর্তমানে নতুন ভবনটি নির্মানের পর পুরাতন স্কুল ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভবনটি ভেঙ্গে নেওয়ার পর শ্রেণীকক্ষ সংকট দেখা দেয়। যার ফলে দুই শিফটে চলা এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর এবং তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাস স্কুলের বারান্ধায় নেওয়া হয়। কিন্তু সোমবার প্রবল বৃষ্টির কারণে পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভিজে যায়। নষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের বইখাতা।
তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাসকিন ও আরাফাত জানায়, তাদের শ্রেণীকক্ষ সংকট রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে বারান্দায় ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হয়।
সুরশাইল সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক লিলি মজুমদার জানান, শ্রেণী সংকটের কারণে তাদের বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি রুম হলে তাদের এ সমস্যা থাকত না।
সুরশাইল সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই জানান, তাদের স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও শ্রেণীকক্ষ সংকট চলে আসছে। বিষয়টি তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, ‘বরাদ্দ না থাকায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। আমরা আপাতত অন্য স্কুল থেকে একটি টিনের ঘর ওই স্কুলে দেওয়ার জন্য বলেছি।’