আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুরে এক মুসলিম কিশোরীকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বর্তমানে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটির পরিবারের দাবি, পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী অবস্থায় একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে খাবার কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরী আর ফিরে আসেনি। পরদিন রোববার (০৫ জুলাই) সকালে স্থানীয়রা বাড়ির কাছের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর বারুইপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র গণ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার পুলিশের কাছে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই পকসো (POCSO) আইনে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা রুজু করা হয়, যা শুরুর দিকে সাধারণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে প্রশাসন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকে রেখেছে। এর মাঝেই মূল অভিযুক্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিচারের দাবিতে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে নির্যাতিতার পরিবার।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক বাসিন্দা জানান, মাগরিবের নামাজের পর মেয়েটি এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিল এবং রাত ৮টার পর থেকে সে নিখোঁজ হয়। সাড়ে ৮টার দিকে থানায় জানানো হলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়রাই অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন বিজেপির স্থানীয় নেতা শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে আড়াল করার অভিযোগ ওঠে। পিটিআই-কে দেওয়া অন্য এক বাসিন্দার তথ্যমতে, বারুইপুর পশ্চিম তিন নম্বর অঞ্চলের বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি শান্তনু মণ্ডল ঘটনার দিন স্থানীয়দের পুকুরের দিকে যেতে বাধা দিচ্ছিলেন এবং আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন, তিনি কাউকে পালাতে সাহায্য করেননি, বরং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তিনিই অভিযুক্তকে শনাক্ত ও আটক করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
শান্তনু মণ্ডলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে তারা মোট চারজন মিলে ওই নাবালিকার ওপর সংঘবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল এবং একপর্যায়ে পা দিয়ে গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
সূত্র: বিবিসি