আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার পরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে জোরালো আক্রমণ শুরু করেছে ইরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানি বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার স্টেশন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং স্পিডবোটসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। এই অভিযানে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুদ্ধবিমান ও নৌযানের পাশাপাশি বিশেষ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হয়। হোয়াইট হাউসের নির্দেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি আগ্রাসন রুখতে আগের দিনও ১৪০টি স্থানে আঘাত হেনেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত: আমেরিকার এই বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তাদের যৌথ হামলায় জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটির জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ মজুতের স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে। বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও সফলতার সঙ্গে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি।
কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। এই তীব্র পাল্টা আক্রমণের পর বাহরাইনজুড়ে সতর্কসংকেত (সাইরেন) বেজে উঠেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু: আইআরজিসি জানায়, ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে অবৈধভাবে হরমুজ পার হওয়ার সময় দুটি জাহাজকে তাদের নৌবাহিনী আটক করার পর মার্কিন বাহিনী এই নতুন হামলা শুরু করে। রোববারের এই অভিযানে খুজেস্তান, হরমোজগান ও সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে লক্ষ্য করা হয়। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মারকাজি প্রদেশের খোন্দাব শহরের ভারী পানির স্থাপনার উপকণ্ঠে আমেরিকা সবচেয়ে বড় হামলাটি চালায়।
হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হননি। তবে খুজেস্তানের মাশহরে একটি কৃষি সেচ পাম্পিং স্টেশনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন পাহারাদার নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি নিশ্চিত করেছেন।