এম জালাল উদ্দীন:পাইকগাছা(খুলনা):: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মেলেকপুরাইকাটি সাধুপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের বেহাল রাস্তা অবশেষে সংস্কার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশনা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব বিশ্বাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইটের সলিংয়ের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জয়দেব সাধুর বাড়ির পাশ থেকে বরুণ সাধুর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫১৫ ফুট রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী ছিল। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং মন্দিরে আগত ভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। ফলে পথচারী, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে সর্বশেষ রাস্তাটিতে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো ধরনের সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ অংশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় স্থানীয় বোয়ালিয়া সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি তুষার কান্তি সাধুর উদ্যোগে গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একটি লিখিত আবেদন করা হয়। এ আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁরই নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরের ২৫ জুন রাস্তাটি ৫১৫ ফুট লাম্বা ও ৬ ফুট চওড়া ইটের সলিংয়ের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
রাস্তা সংস্কারের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়ায় এখন যাতায়াত অনেক সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি, নারী এবং মন্দিরে আগত ভক্তরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের এ জনদুর্ভোগের অবসান ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দা, মন্দিরের পূজারী, মন্দির কমিটির সভাপতি তুষার কান্তি সাধুসহ এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব বিশ্বাসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।