বাগেরহাট প্রতিনিধি:: বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন পালিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে এলাকাবাসী ও সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের সদস্যরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দ্বিতীয় দিনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জেলার অধিকাংশ সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে
প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অবৈধ দখলে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও
পাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষিজমিতে সময়মতো পানি না পৌঁছানো, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল,
মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল ও
হোজির খালসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের সীমানা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে পুনর্দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। এ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়।
অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের প্রতিনিধি শেখ ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে
বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একসময়
এসব খাল থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে
প্রভাবশালীরা পানি নিয়ন্ত্রণ করে মাছ চাষ করছেন। এতে কৃষকরা প্রয়োজনের
সময় পানি পাচ্ছেন না এবং সাধারণ মানুষ ভয়ের কারণে প্রতিবাদও করতে পারছেন
না।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া বমাফুজ মাঝি বলেন, শুধু বাগেরহাট সদর নয়, রামপাল
উপজেলার বিভিন্ন সরকারি খালও দখল হয়ে আছে। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত সব
সরকারি খাল অবমুক্ত করা প্রয়োজন। পশ্চিম ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শেখ
মারুফ এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফও সরকারি খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত
করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি খাল দখলমুক্ত করার
দাবির সঙ্গে প্রশাসন একমত। আন্দোলনকারীদের স্মারকলিপি দেওয়ার আহ্বান
জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, সরকারি খাল কোনো
ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। খাল দখলের কারণে
কৃষি, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের
সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ
কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।