আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অভিযানে অংশ নেওয়া ইরানের এক পাইলটের মরদেহ কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তেহরান। সে সময় মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও একটি বিশেষ অভিযানে পুরোনো সুখোই-২৪ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়েছিল।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ বছর পুরোনো দুটি সুখোই-২৪ যুদ্ধবিমান নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেন কয়েকজন ইরানি পাইলট। তবে অভিযান চলাকালে কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমান দুটির ওপর আঘাত হানে। এতে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং এর পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমি নিহত হন।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবরে বলা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত পাইলটের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার মরদেহ কাতার থেকে ইরানে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) মরদেহটি নিজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি সুখোই-২৪ যুদ্ধবিমান আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও এই অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলটদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কাতারে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় যে কোনো সময় বিমান ভূপাতিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই ঝুঁকি জেনেও তারা অভিযান পরিচালনা করেন।
সংঘাত চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-উদেইদ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ঘাঁটি থেকে সেনা সদস্য ও সামরিক বিমান সরিয়ে নেয়।
ইরানের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হলেও ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিহত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে সেই অভিযানের আরেকটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।