বাগেরহাট প্রতিনিধি:: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা (বিলকান্দি) গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও হাত বাঁধা অবস্থায় পাওয়ায় ঘটনাটিকে পরিকল্পিত নির্মম হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী ও পুলিশ।
নিহতরা হলেন— চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৪), তার মা মনিরা বেগম (৪৫) এবং নানি রাশিদা বেগম (৭০)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদরের বিষ্টিপুর এলাকার মৃত ডা. আঃ রশিদের স্ত্রী এবং তিনি জামাইবাড়িতে নাতি-মেয়ের কাছে থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রের জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশীরা তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ডাকার জন্য ঘরের সামনে যান। তখন তারা দেখতে পান ঘরের বাইরের দরজায় ছিটকানি লাগানো রয়েছে। পরে বাইরে থেকে ছিটকানি খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই রক্তাক্ত ও হাত বাঁধা অবস্থায় তাদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে শিউরে ওঠেন প্রতিবেশীরা।
নিহত আহাদ হাওলাদারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের গুরুতর চিহ্ন ছিল। অন্যদিকে মনিরা বেগম ও তার বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগমকে হাত বাঁধা অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত কচুয়া থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাতের যেকোনো সময় দুষ্কৃতকারীরা ঘরে ঢুকে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে বাইর থেকে দরজার ছিটকানি আটকে পালিয়ে যায়। তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
এ বিষয়ে কচুয়া থানা পুলিশ জানায়, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। নির্মম এই ৩ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।