নিজস্ব প্রতিনিধি:: জুলাই আন্দোলন ছাত্র-জনতার আন্দোলন। এ আন্দোলন প্রথমে কোটা বিরোধী ও বৈষম্য বিলোপের দাবিতে শুরু হলেও পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটেছিল। একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আকাঙ্খা নিয়ে সহস্রাধিক ছাত্র, জনতা, শ্রমিক জীবন দিয়ে দেশে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা পুন:প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বিধায় পাঁচই আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার বেলা ১১টায় নগর ভবন চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
রক্তস্নাত রাজপথে রক্ত দিয়ে যারা এই আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রশাসক আরো বলেন, যে আকাঙ্খা নিয়ে ছাত্র-জনতা এই আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন সেই আকাঙ্খা, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মানুষ বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। গণমানুষের সেই আকাঙ্খার বাস্তবায়ন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং একটি নতুন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়েই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভা ছাড়াও দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে নগর ভবনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতা, বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনে শহিদ শেখ মো: সাকিব রায়হান-এর কবর জিয়ারত, শিববাড়ি মোড়স্থ জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহে কাগজের জাতীয় পাতাকা দ্বারা এবং জুলাই আন্দোলনের উপর বস্তুনিষ্ঠ ও দুর্লভ চিত্রের প্যানা ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দেয়া করা হয়।
প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সকাল ৯টায় বসুপাড়া কবরস্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহিদ শেখ মো: সাকিব রায়হান-এর কবর জিয়ারত করেন এবং সকাল সাড়ে ৯টায় শিববাড়ি মোড়স্থ জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি নগর ভবনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান। কেসিসি’র কর্মকর্তা, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে শহিদ শেখ মো: সাকিব রায়হান-এর স্মৃতিচারণ করেন তার পিতা মো: আজিজুর রহমান এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসি’র সিনিয়র লাইন্সে অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিম ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো: আব্দুস সালাম ফারাজী।