
মোঃ মামুনুর রশিদ ও গাজী তরিকুল: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হাটবাটী ( বড়) জেএল -১২ নং মৌজায় খতিয়ান, দাগ ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা এবং অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাটবাটী গ্রামের দ্বিগবিজয় রায় ওরফে রায়গং একই দাগ খতিয়ানের জমি একাধিক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে দখল বুঝে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ।
এতে করে একাধিক জমি ক্রেতাগণ তাদের ক্রয়কৃত জমি ও বায়নার টাকা বুঝে না পেয়ে দিকবেদিক ছুটাছুটি করছে । অন্যদিকে জমির মালিকগণ ক্রেতাদের জমি বুঝে না দিতে পেরে সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে দখল বুঝে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । যে কারণে ভিপি জমির লীজ গ্ররহিতীরা সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করেও জমির দখল বুঝে পাইনি । একদিকে প্রতারক দ্বিগবিজয়গং প্রতারণা করে একাধিক নিকট ব্যক্তিগত জমি বিক্রি করছে, অন্যদিকে দ্বিগবিজয় সরকারি ভিপি সম্পত্তিও ব্যক্তিগত জমি দাবি করে ক্রেতাদের সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে দখল বুঝে দিচ্ছে । এতে করে ক্রেতারা তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বুঝে না পেয়ে সরকারের ভিপি জমি বুঝে দেয়াতে সরকারের সাথেও বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিএস ও এসএ খতিয়ানের জমির পরিমাণ, দাগ বিভাজন এবং বাস্তব দখলের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে।
জানা যায়, সিএস ১০১ খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ১৩.৮১ একর উল্লেখ থাকলেও, এসএ রেকর্ডে দাগ নং ১২৫৬ (৯.৯৪ একর) এবং ১২০৬ (৩.৮৭ একর) মিলিয়ে মোট ১৩.৮১ একর দেখানো হয়েছে। তবে একই খতিয়ানে বাস্তবে জমির পরিমাণ ৯.১২ একর পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, দাগ নং ১২০৪ (১.৫১ একর), ১১৭৬ (৬.৬ একর) এবং ১১৮১ (১.৫৫ একর) মিলিয়ে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮.২৯ একর। আবার এসএ ২৬৩ খতিয়ানে বিভিন্ন দাগে জমির হিসাব মিলিয়ে প্রায় ২২.৯৩ একর জমির উল্লেখ পাওয়া যায়, যা বাস্তব পরিস্থিতির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ৬২/৬৬/৬৭ নং লিজ কেসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং তা নবায়ন করে ভোগদখল চালিয়ে যাচ্ছেন একাধিক ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট দাগসমূহের মধ্যে ১১৭৬, ১২০৪, ১১৮১, ১২৫৩, ১২৫৪, ১২৫৫, ১২৫৬, ১২৫৭ ও ১৩১৭ দাগে প্রায় ৪.৯৭ একর জমি বর্তমানে সরকারি ইজারার আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটবাটী গ্রামের মৃত অতুল রায়ের পুত্র দ্বিগবিজয় রায় ক তফসিল ভূক্ত সরকারি লীজকৃত জমিতে দখল রাখছে , অন্যদিকে ব্যক্তি মালিকানার জমিও একাধিকবার বিক্রি করেছেন। তিনি টিএস ৩৫৩/৬৭ মামলার মাধ্যমে ১.৯৫ একর জমির মালিকানা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তি যেমন, দৈনিক বাংলার খবর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ জামাল উদ্দিন, দৈনিক বাংলার খবর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক , মোঃ রকিবুল জাহীদ মুকুল,আবুল হোসেন এবং সাবেক মেম্বার নজরুলের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি বিক্রি করেন। শুধু রকিবুল জাহীদ মুকুলের নিকট থেকে ৭৩ লক্ষ টাকা নিয়ে জমি লিখে না ওই একই জমি অন্যান্যের নিকট বিক্রি করে একাধিক বার প্রতারণা করে চলেছে । অভিযোগে আরো জানা গেছে, একই জমি একাধিকবার বিক্রি, চুক্তির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ এবং লিজ নবায়নের নামে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিও বিভাজন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতুল কৃষ্ণ রায়ের মৃত্যুর পর তার তিন পুত্র—দ্বিগবিজয় রায়, অরিন্দম রায় ও যদুনাথ রায় প্রত্যেকে প্রায় ৮৭ শতক করে জমি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব দখল ও বিক্রয়ের হিসাবে একাই দ্বিগবিজয় ১৬২শত জমি বিক্রয় করে যা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলার খবর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন আহম্মেদ এবং তাহমিনা আহম্মেদের নিকট দ্বিগবিজয় এবং নিরঞ্জন ( নিরোদ) মন্ডল ওরফে মল্লিক সি.এস ১০০ নং এবং এসএ ২৬১ নং, ১২০৫ এবং ১২০৬ দাগের ৫০ শতক জমি ১০ লক্ষ ৫ হাজার টাকার বিনিময় ক্রয় করেন ১০/০৩/ ২০১৪ ইংরেজী তারিখে। কিন্তু আজ পযর্ন্ত সেই ৫০ শতক জমি মালিক পক্ষকে বুঝিয়া না দিয়ে একাধিক ব্যাক্তির নিকট একই দাগের জমি বিক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে দ্বিগবিজয় গং এর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং প্রতারণার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply