1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
তুরস্কে স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত ৯ বিচ্ছিন্ন লাখো মানুষ,দক্ষিণ লেবাননের শেষ সেতুটিও ধ্বংস করল রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়-প্রধানমন্ত্রী ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে বিএনপি সরকার,রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার বিমুখতায় সংকটের পদধ্বনি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হাতে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ও দুই মাদককারবারি আটক মায়ানমারে পাচারকালে ৬৬০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ উদ্বোধন; কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত ঘোড়াঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু। পাইকগাছায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ

রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়-প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তা যেন শত্রুতায় পরিণত না হয় এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এ সময় বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে অনীহা দেখানোকে তিনি হীনমন্যতার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা সময়ের দাবি।

বক্তব্যে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তিনি জাতির গর্ব উল্লেখ করে দেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসংখ্য শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পর দেশ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এখনো অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মধ্য দিয়েই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অতীতে শিক্ষা খাতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়নের কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন খাতে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে উপস্থাপিত দলীয় ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের সমর্থন নিয়েই এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখনো মূল্য সমন্বয় করেনি; বরং ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

সবশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের আবারও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এইসব অর্জন একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক স্বীকৃতি পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট