মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
জেনে নিন ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপ কোথায়, কারা আয়োজক যে ভুলে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলো মেসিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নৌ-অবরোধের ঘোষণা হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হলেন খলিল আল-হাইয়া মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দ্রুত রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা বিতরণ ​বাগেরহাটে অনলাইন লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত দাকোপে ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত শার্শায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু, আহত ১

সত্যিই কী যুক্তরাজ্যে ৩৬০টি বাড়ির মালিক সাবেক ভূমিমন্ত্রী?

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ২০৩ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকশ বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এগুলোর কোনোটাই তিনি বাংলাদেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে ঘোষণা করেননি।

বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী ইউনিটের তৈরি ‘দ্য মিনিস্টার’স মিলিয়নস’ নামে একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর লন্ডন, দুবাই ও নিউ ইয়র্কে কয়েকশ’ বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই তার রয়েছে ৩৬০ বেশি বিলাশবহুল বাড়ি।

আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের এই গোপন অনুসন্ধানে প্রকাশ হয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশের সাবেক এই মন্ত্রী সরকারিভাবে সীমিত বেতন থেকে ৫০ কোটি ডলারের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

বাংলাদেশে কঠোর মুদ্রা আইন অনুযায়ী, বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি বিদেশে স্থানান্তর করা নিষিদ্ধ। সেই সঙ্গে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মন্ত্রীরা সরাসরি ব্যবসায়িক স্বার্থে লাভবান হতে পারেন না বা পরিচালকের পদে থাকতে পারেন না।

আল জাজিরা জানায়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ব্রিটেনে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ৩৬০টিরও বেশি বিলাসবহুল সম্পত্তি কিনেছেন। তার এই সম্পত্তি ব্রিটেনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি-দুবাই, নিউ ইয়র্ক, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও ছড়িয়ে আছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার শক্তিশালী রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে গর্ব করে আল জাজিরাকে বলেছেন, আমার বাবা শেখ হাসিনার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আমিও। তিনি আমার বস… তিনি জানেন যে আমি ব্রিটেনে ব্যবসা করছি।

২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে কোম্পানি গড়ে তোলার পর দেশটিতে তার সম্পত্তি কেনার গতি বৃদ্ধি পায়। ২০১৯ সালে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর এই গতি আরও বেড়ে যায়।

জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানোর পর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ আগের সরকারের মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য দেশ ছেড়েছেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ সরকার। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে তার পরিবার-পরিচালিত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিকরা ছদ্মবেশে বিনিয়োগকারী সেজে গত বছর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। তারা তার ১৪ মিলিয়ন ডলারের লন্ডনের বাড়িতে যান। তাদের সঙ্গে তিনি হাতে-তৈরি কুমিরের চামড়ার জুতা এবং লন্ডনের শীর্ষ দোকানগুলো থেকে ইতালীয় স্যুট কেনার গল্প করেছেন।

লন্ডনের বাড়িটির ঘুরে দেখানোর সময় সাবেক মন্ত্রী সাংবাদিকদের একটি সিনেমা হল, জিম, ব্যক্তিগত লিফট ও রোলস-রয়েস গাড়ির জন্য বিশেষ সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পার্কিং দেখিয়েছেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আল জাজিরাকে বলেছেন, তার সম্পত্তিগুলো যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। সাইফুজ্জামান দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews