
মনির হোসেন:: চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির মূলহোতা ভারতীয় নাগরিকসহ ৬ জন বাংলাদেশী কারিগরকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট এর কার্যক্রম প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত নিরলস পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড।
সম্প্রতি কিছু অসাধু মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারি নিষেধ অমান্য করে কাঠের ফিশিং বোটে অবৈধভাবে ট্রলিং সরঞ্জামসহ ছোট ফাঁসের বেহুন্দি জাল স্থাপন করে আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে রূপান্তর করছে। এ ছোট ফাঁসের জালে আটকে পড়ে গভীর ও অগভীর সাগরের রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ ও মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ক্রমশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বিগত চার বছরে আশঙ্কাজনকভাবে মাছের প্রজনন কমে গিয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ছে সাধারণ জেলেরা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন চর পাথরঘাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি ফ্যাক্টরীতে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম ও ট্রলিং জাল তৈরির কাজ চলছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত ফ্যাক্টরীতে তল্লাশী চালিয়ে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ১২ টি অবৈধ ট্রলিং জাল ও জাল তৈরীর সরঞ্জামসহ ট্রলিং বোট তৈরির মূল কারিগর ভারতীয় নাগরিক পন্ডিত বিশ্বাস কে আটক করা হয়। এ সময় আটক হয় ৬ জন বাংলাদেশী কারিগর। ট্রলিং জাল তৈরির মূলহোতা ভারতীয় নাগরিক পন্ডিত বিশ্বাস (৩৯) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে বাংলাদেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশী ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসনাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর হিসেবে কাজ করে। বর্ণিত ভারতীয় নাগরিক সর্বশেষ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে ভ্রমন ভিসায় আগমন করে। এছাড়াও সে ইতোপূর্বে বহুবার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বরগুনার পাথরঘাটায় মাসুম কোম্পানি, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শুক্কুর, ইসমাঈল ও জাহাঙ্গীর কোম্পানিতে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির কাজ করে আসছে। ফলে, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে ট্রলিং বোট ও জালের বিচরন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ২০২৫ তারিখ কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ভারতীয় নাগরিক পন্ডিত বিশ্বাসকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কিছু অসাধু ট্রলিং জাল ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের বাাঁশখালীর শুক্কুর কোম্পানী এবং জাহাঙ্গীর কোম্পানীর সরাসরি হস্তক্ষেপে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে সে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়। আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরবর্তীতে পন্ডিত বিশ্বাস জামিনে মুক্তি পেয়ে পূর্বের ন্যায় আরও বৃহৎ পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসনাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির কাজ শুরু করে।
জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থগ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
Leave a Reply